বাকৃবির গবেষণা: ৫ দেশি মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে বেশি কইয়ে

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১০
বাকৃবির গবেষণা: ৫ দেশি মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে বেশি কইয়ে


আড়িয়াল বিলের পাঁচ প্রজাতির দেশি ছোট মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। এসব মাছের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে কই মাছে।


মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়া অন্য মাছগুলো হলো—বাটা, মেনি (ভেদা/নান্দিনা), গুলশা টেংরা ও পুঁটি।


গবেষকদের মতে, বর্তমানে এসব মাছ খাওয়ার ফলে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া না গেলেও দীর্ঘমেয়াদে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবস্বাস্থ্য, জলজ বাস্তুতন্ত্র ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


গবেষণার প্রধান গবেষক ও বাকৃবির ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান জানান, আড়িয়াল বিলের গাদীঘাট, বসুরোলা ডেঙ্গা, সাগর ডেঙ্গা, বড়াইখালী ও আলমপুর—এই পাঁচ স্থান থেকে ২০২৪ সালের বর্ষা, ২০২৪-২৫ সালের শীত এবং ২০২৫ সালের শুষ্ক মৌসুমে পানি, পলিমাটি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।


গবেষণায় দেখা গেছে, সর্বভুক হওয়ায় কই মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। তিন মৌসুমেই কই মাছের মাংসপেশিতে গড়ে প্রায় একটি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্ত্রে গড়ে ১ দশমিক ৭০ থেকে ১ দশমিক ৯০টি এবং ফুলকায় ১ দশমিক ৩০ থেকে ১ দশমিক ৪০টি কণা শনাক্ত হয়েছে।


কইয়ের পর সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বাটা মাছে। এরপর রয়েছে মেনি ও গুলশা টেংরা। সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে পুঁটি মাছে।


তৃণভোজী বাটা মাছের অন্ত্রে বর্ষা মৌসুমে গড়ে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। মাংসপেশিতে তিন মৌসুমেই প্রায় একই মাত্রায়—শূন্য দশমিক ৮০ থেকে শূন্য দশমিক ৯০টি—প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।


নান্দিনা বা মেনি মাছের অন্ত্রে শীত ও শুষ্ক মৌসুমে তুলনামূলক বেশি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। তবে মাংসপেশিতে এর পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ৬০ থেকে শূন্য দশমিক ৭০টি। গুলশা টেংরার ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে। এ মাছের অন্ত্রে শীত মৌসুমে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৩০টি কণা শনাক্ত হলেও মাংসপেশিতে পাওয়া গেছে শূন্য দশমিক ৫০ থেকে শূন্য দশমিক ৮০টি কণা।


অন্যদিকে, ছোট আকারের সর্বভুক পুঁটি মাছে সবচেয়ে কম মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এর মাংসপেশিতে মাত্র শূন্য দশমিক ৫০ থেকে শূন্য দশমিক ৫১টি কণা পাওয়া গেছে।


গবেষণায় প্রতি লিটার পানিতে ১১ থেকে ৩১ দশমিক ৬৭টি এবং প্রতি কেজি পলিমাটিতে ১২ দশমিক ৩৩ থেকে ১২৭ দশমিক ৩৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। বর্ষা মৌসুমে পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল।


অধ্যাপক ড. শাহজাহান বলেন, ফোরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটি-আইআর) স্পেকট্রোস্কোপি পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া কণার ৩৪ থেকে ৬৩ শতাংশই মাইক্রোফাইবার বলে জানা গেছে। এসব কণার প্রধান উৎস হিসেবে কাপড় ধোয়ার সময় নির্গত কৃত্রিম তন্তু, গৃহস্থালির বর্জ্যপানি ও মাছ ধরার প্লাস্টিক জালকে চিহ্নিত করা হয়েছে।


এ ছাড়া ভাঙা শক্ত প্লাস্টিক, পলিথিনের ফিল্ম ও ফোমজাতীয় কণাও পাওয়া গেছে। রাসায়নিক বিশ্লেষণে পলিইথিলিন (পিই), পলিপ্রোপিলিন (পিপি), পলিস্টাইরিন (পিএস), পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি) ও পলিকার্বোনেট (পিসি) শনাক্ত হয়েছে। এসব উপাদান প্লাস্টিক ব্যাগ, মোড়ক, বোতল, প্যাকেজিং সামগ্রী ও বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।


গবেষণার প্রধান গবেষক বলেন, ‘আতঙ্ক নয়, এখন প্রয়োজন উৎস থেকেই প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ।’ তাঁর মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে পরিবেশের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। আড়িয়াল বিলের মাছের অন্ত্রের পাশাপাশি মাংসপেশিতেও এর উপস্থিতি পাওয়ায় বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।


তবে বর্তমানে এসব মাছ খেলে সরাসরি ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে এ ধরনের কণা জমতে থাকলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব দেখা দিতে পারে। এমনকি পাঁচ বা দশ বছরে নয়, ২৫ থেকে ৩০ বছর পর কিংবা পরবর্তী প্রজন্মেও এর প্রভাব প্রকাশ পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য