হত্যার আগে কক্সবাজারে দুই দিন ছিলেন তাজমিন, সঙ্গে ছিলেন রাজু

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৮
হত্যার আগে কক্সবাজারে দুই দিন ছিলেন তাজমিন, সঙ্গে ছিলেন রাজু



কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। হত্যার আগে কক্সবাজারে দুই দিন অবস্থান করেছিলেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজু চৌধুরী (২০) নামে এক যুবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল বলে জানা গেছে।


তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারে যান তাজমিন।


রাজু কক্সবাজারের দুবাই আবাসিক হোটেলে কর্মরত। হোটেলটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী গণমাধ্যমকে জানান, তাজমিনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন রাজু।


ওই কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজু তাঁকে জানিয়েছেন, ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাজমিন কক্সবাজারে আসেন। সেখানে কিছুদিন অবস্থানের পর কুমিল্লায় ফেরার জন্য তাঁকে বাসের টিকিট কেটে দেওয়া হয়। ঘটনার পর রাজু হোটেল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।


তাজমিনের কক্সবাজার থেকে ফেরার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন কক্সেস প্যানারেমিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির কর্মী আবদুল্লাহ।


তিনি জানান, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টার পর এক তরুণ ও এক কিশোরী তাঁদের কাউন্টারে বাসের টিকিট কাটতে আসেন। পরদিনের জন্য একটি টিকিট কেনা হয়।


বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের একটি বাস কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। রাতের দিকে বাসটি কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছায়।


আবদুল্লাহ জানান, তাজমিন হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর তিনি বাসের ওই কিশোরীর পরিচয় সম্পর্কে খোঁজ নেন। পরে তাঁকে তাজমিন হিসেবে শনাক্ত করেন।


এদিকে, তাজমিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মাকে জানিয়েছিলেন, তিনি এক বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান তিনি। পরে কুমিল্লা হয়ে কক্সবাজারে পৌঁছান।


তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে ফেরার পর কুমিল্লায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়ার (৩৫) সঙ্গে তাজমিনের দেখা হয়। তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সুমনের সম্পৃক্ততার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।


এ ঘটনায় সুমন আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।


তবে কক্সবাজারে অবস্থানকালে তাজমিনের চলাফেরা, রাজুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং কুমিল্লায় ফেরার পর ঘটনাপ্রবাহের সব তথ্য এখনো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।


উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বাবা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য