পটুয়াখালীর গলাচিপায় আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ, আগাম জাতের হাইব্রিড তরমুজবীজের পরিচিতি এবং সার ও কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা সভা ও পরিবেশক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় গলাচিপা উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে জিসান এগ্রো সীড ফার্ম ও সেঞ্চুরী এগ্রো লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সেঞ্চুরী এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার। এ সময় উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আকরামুজ্জামানও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জিসান এগ্রো সীড ফার্মের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের সাবেক পরিচালক কৃষিবিদ কে জে এম আব্দুল আউয়াল।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, বিসিআইসি সার ডিলার, বিভিন্ন উপজেলার বীজ ও কীটনাশক পরিবেশক এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের তরমুজচাষিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জিসান এগ্রো সীড ফার্মের আমদানি করা কয়েকটি আগাম জাতের হাইব্রিড তরমুজবীজের পরিচিতি তুলে ধরা হয়। জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজকুমার-এফ১, বিগ প্লাস সুপার-এফ১, গ্রেড আস্থা-এফ১, সাগরকন্যা-এফ১ ও নিউ এশিয়া প্লাস।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব জাতের তরমুজ উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যায় ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে সংগ্রহের উপযোগী হতে পারে। প্রতিটি তরমুজের ওজন ১২ থেকে ১৪ কেজি পর্যন্ত হতে পারে বলেও দাবি করা হয়।
এ ছাড়া জাতগুলোর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, শীত ও ভাইরাস সহনশীলতা এবং সম্ভাব্য ফলন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা দাবি করেন, সঠিক চাষপদ্ধতি অনুসরণ করলে আগাম তরমুজ চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন।
পরে সেঞ্চুরী এগ্রো লিমিটেডের পরিবেশক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, গুণাগুণ এবং কৃষি উৎপাদনে সেগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সমাবেশে অংশ নেওয়া কৃষক ও পরিবেশকেরা তরমুজ চাষের অভিজ্ঞতা, বীজের মান, ফসলের রোগবালাই এবং কীটনাশক ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্পর্কে চাষিদের সচেতনতা বাড়ানো এবং মানসম্মত কৃষি উপকরণ ব্যবহারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।