নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের 'দারুল ফালা ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা'-র অধ্যক্ষ মাও. মো. বদরুদ্দোজা-র বিরুদ্ধে দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস ধরে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা তোলার অভিযোগ উঠেছে। অধ্যক্ষের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন। জানা গেছে, বিগত মে ২০২৬ থেকে অধ্যক্ষ মাদ্রাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন। হাজিরা খাতায় তাকে অনুপস্থিত দেখানো হলেও তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়ে স্থানীয় নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী। এরই প্রেক্ষিতে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে বিষয়টি তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) বরাবর পাঠানো হয়েছে।
মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যক্ষ না থাকায় নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। বর্তমানে সিনিয়র শিক্ষক আলী আশরাফ শামীম একাডেমিক কার্যক্রম দেখভাল করছেন। অন্যদিকে, মাদ্রাসায় আইসিটি শিক্ষক না থাকা এবং শ্রেণি কক্ষে ল্যাপটপ ব্যবহার না করার মতো আরও বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবক প্রতিনিধি ও বর্তমান গভর্নিং কমিটির কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি বলেও জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মাও. মো. বদরুদ্দোজা বলেন, "এসব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি মেডিকেল আনফিট দিয়ে ছুটিতে আছি। ফিট হলে জয়েন করব।"
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, গত মাসে মাদ্রাসা পরিদর্শনে গিয়ে অধ্যক্ষের অনুপস্থিতির বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন এবং হাজিরা খাতায় তাকে অনুপস্থিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে ছুটি না থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) জিনাত রেহানা বলেন, "কোনো জায়গা থেকে আমার কাছে কোনো ছুটির আবেদন আসেনি। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"