আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর কোনো ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার কোনো সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহের উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। কোনো ডিসেম্বরেই তিনি আর দেশে ফিরবেন না। এ সময় আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে দলটিকে ক্ষমা করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে চলে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে তাঁর টানা প্রায় সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক দণ্ডিত আসামি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতা আত্মগোপনে চলে যান। সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতাদের একটি অংশ বিদেশে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে দেশে থাকা অনেক নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।
২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর থেকে দলটির প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা সীমিত হয়ে পড়ে। তবে অনলাইনে বিভিন্ন কর্মসূচি ও বক্তব্য প্রচারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া যায়।
ভারতে অবস্থান করেই শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়ে আসছেন। গত জুলাইয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত দলীয় নেতাদেরও দেশে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার সেই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেন, কোনো ডিসেম্বরেই তিনি আর দেশে ফিরবেন না।