আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ, যে রাতে থেমে গিয়েছিল এক মেধাবী প্রাণ

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৭
আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ, যে রাতে থেমে গিয়েছিল এক মেধাবী প্রাণ


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার (৭ অক্টোবর)। ২০১৯ সালের এই দিনে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে নির্যাতনের পর মৃত্যু হয় তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের এই শিক্ষার্থীর। সাত বছর পেরিয়ে গেলেও আলোচিত হত্যা মামলাটির চূড়ান্ত বিচার এখনো শেষ হয়নি। মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন।


আবরার ছিলেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় ফিরে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে যান তিনি। ওই রাতেই তাঁকে হলের একটি কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতনের পর ৭ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল ২১ বছর।


আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা বরকত উল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে রাজধানীর চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ৩৭ দিনের তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা।


এরপর ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে যায়। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিরাও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে একই বছরের ১৬ মার্চ বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। পরে ১৩১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।


হাইকোর্টের রায়ে আবরার হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত বলে উল্লেখ করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঘটনাটি আকস্মিক ছিল না; এর আগে নেওয়া সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় আবরারের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছিল বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। তবে এমন অভিযোগ কাউকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার কারণ হতে পারে না বলে পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।


হাইকোর্টের রায়ের পর মামলাটি এখন আপিল বিভাগে রয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি সরাসরি আপিল করেছেন এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পাঁচজন আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুত হলেও ৬ অক্টোবর পর্যন্ত মামলাটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠেনি বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।


মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিদের মধ্যে তিনজন বিচারিক আদালতের রায়ের সময় থেকেই পলাতক ছিলেন। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুনতাসির আল জেমি ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যান বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।


আবরারের পরিবার এখন মামলার চূড়ান্ত বিচার দ্রুত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁর বাবা বরকত উল্লাহ মামলাটি বিশেষ বিবেচনায় কার্যতালিকায় এনে বিচারকাজ শেষ করার আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, আপিল বিভাগে শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের কারণে যেন বিলম্ব না হয়, সে অবস্থান থাকবে এবং রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে মুলতবি চাইবে না।


আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুয়েটেও স্মরণ কর্মসূচি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আসরের নামাজের পর বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরারের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাঁকে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে স্মরণ করেছে।


আবরারের মৃত্যুর সাত বছর পেরিয়ে গেছে। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট—দুই ধাপেই মামলার রায় এসেছে। এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত বিচার শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বহুল আলোচিত মামলাটি।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য