সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে নিখোঁজ ফজলুর রহিম কাজল মিয়া (৫০) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে মোহনগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর উত্তরপাড়া এলাকায় চৌধুরীবাড়ির পেছনে একটি কবরস্থানের পাশের গাছ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফজলুর রহিম কাজল মিয়া সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি ধর্মপাশার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে বিরামপুর উত্তরপাড়া এলাকায় কবরস্থানের পাশে একটি গাছের ডালে মরদেহ ঝুলতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর গলায় দড়ি প্যাঁচানো ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের বড় ভাই বুলবুল মাস্টার জানান, বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে সর্বশেষ তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। তাঁর দাবি, ফজলুর রহিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর ইসলাম হারুন বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এটি হত্যাকাণ্ড, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।