জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে না বলে মনে করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কোনো ব্যবসায়ী যাতে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারেন, সে জন্য বাজারে কঠোর নজরদারি রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের ফ্যাক্টরি মাঠে চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়াতে না পারেন, সে জন্য বাজার তদারকি জোরদার করা হবে।
এ সময় বিরোধী দলের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গেও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা নির্বাচিত বিরোধী দল। তাই বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে তাদের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চা শিল্পের উন্নয়ন প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের চা বাগানগুলোর আয় বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। চা বাগানকে আরও লাভজনক করার উপায় খুঁজতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সম্প্রতি বৈঠকও হয়েছে।
তিনি জানান, চা উৎপাদন ব্যাহত না করে বাগানের জমিতে কাঠ ও মসলাজাতীয় গাছসহ অন্যান্য লাভজনক গাছ লাগানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপযোগী চা বাগানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চা বাগানের আয় বাড়লে শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনমান উন্নয়নের সুযোগও তৈরি হবে। এ লক্ষ্যে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
যেসব চা বাগানে স্কুল নেই, সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট সংস্কারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাসহ স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সিলেট সদর উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানের ১ হাজার ৯৮০ শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ করা হয়।
সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম