জনগণের জীবনমান উন্নয়ন সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিভাগ: জাতীয় রিপোর্টার: অনলাইন ডেস্ক 10 Jul 2026, 02:33 PM ⏱ পড়তে সময় লাগবে 1 মিনিট
জনগণের জীবনমান উন্নয়ন সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাকে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (১১ জুলাই) পালনীয় দিবসকে সামনে রেখে শুক্রবার (১০ জুলাই) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনমিতিক সম্ভাবনাকে টেকসই উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদার এবং নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন-অভিযাত্রার অন্যতম লক্ষ্য হলো তরুণদের সম্ভাবনাকে জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তিতে পরিণত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনাকে সমন্বিত করে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেশবাসী, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে দিবসটির চেতনা বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য—‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’—জাতীয় উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন একটি প্রজন্মের ওপর, যারা হবে শিক্ষিত, দক্ষ, প্রযুক্তিবান্ধব, সুস্থ, মানবিক ও উদ্ভাবনী। তাই তরুণদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বিকাশে রাষ্ট্রকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা মানসম্মত শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ পাবে এবং নিজেদের ইচ্ছা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবার গড়ে তুলতে পারবে।

তারেক রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির প্রধান শক্তি আজকের তরুণ সমাজ। সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে প্রত্যেক তরুণ-তরুণী যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ রেখে জাতীয় উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে তরুণরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে এবং দায়িত্বশীল পরিবার গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও সচেতনভাবে নিতে সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি উন্নত জাতি গঠনের পূর্বশর্ত হলো সুস্থ জনগোষ্ঠী। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার সবার জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

বাণীতে তিনি বাল্যবিবাহ, কিশোরী মাতৃত্ব ও অপুষ্টিকে তরুণ প্রজন্মের বিকাশের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষার ধারাবাহিকতা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং জাতীয় উৎপাদনশীলতার ওপর পড়ে। এ কারণে সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কিশোর-কিশোরীদের জন্য মানসম্মত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, পুষ্টি উন্নয়ন এবং জীবনদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা জোরদারে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেক তরুণ-তরুণী যদি সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে ওঠার সমান সুযোগ পায়, তবে তারাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে। তিনি বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অন্যান্য