ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার শৌলডুবী গ্রামের আব্দুল খালেক বেপারীর পুত্র আক্কাস বেপারী। এবার তিনি এক ভিন্নধর্মী ব্যবসায় হাত দিয়েছেন। তিনি গ্রামে ঘুরে ঘুরে বড় সাইজের পাকা তাল সংগ্রহ করে তা বিক্রি করছেন। এই পাকা তাল গ্রামগঞ্জের হারিয়ে যাওয়া এক ঐতিহ্য।
তাল ফল সাধারণত যখন অপরিপক্ক থাকে তখন এর ভেতরকার তালশাঁস হিসেবে এটি বহুল জনপ্রিয়। গরমের সময় এর বিপুল চাহিদার কারণে সবাই তা তালশাঁস হিসেবে বিক্রি করে দেয়, ফলে পাকা অবস্থায় খাওয়ার জন্য খুব কম তালই অবশিষ্ট থাকে। এ কারণেই এটি এখন অনেকটা বিলুপ্তপ্রায়। আগে গ্রামের মানুষ আশ্বিন মাসে পাকা তাল ব্যবহার করে কলাপাতায় তৈরি তাল পিঠা সহ নানারকম বাহারি পিঠা তৈরি করত, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আজ তা প্রায় বিলুপ্তির পথে।
এহেন অবস্থার মধ্যেও আক্কাস বেপারী এই বিলুপ্তপ্রায় তাল সংগ্রহ করে তা শহরে পাঠানোর এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি সদরপুর এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে বড় সাইজের এই পাকা তাল প্রতি পিস ২০ টাকা দরে কিনেছেন। এরপর গাছ থেকে তাল পারার জন্য শ্রমিকের মজুরি বাবদ প্রতি পিস ৮ টাকা খরচ হয়েছে। এরপর পরিবহণ খরচ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এই পাকা তাল ঢাকার যাত্রাবাড়ী আড়তে পৌঁছাতে প্রতি পিস খরচ পড়বে ৩১ থেকে ৩২ টাকা।
আক্কাস বেপারী জানান, তারা ঢাকার যাত্রাবাড়ী আড়তে এই পাকা তাল প্রতি পিস ৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন। আর আড়ত থেকে খুচরা বিক্রেতারা কিনে তা সাধারণ মানুষের কাছে প্রতি পিস ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করে। হাত বদলের এই প্রক্রিয়ায় গ্রামের গাছ থেকে শহরের ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে তাল ফলের দাম প্রায় দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি বেড়ে যায়।
তার পড়েও প্রচুর চাহিদা রয়েছে এই তাল ফলের। আমি সারা বছর গ্রামে গ্রামে ঘুরে এই তাল ফল ক্রয় করি। কিছু তাল শাষ হিসেবে প্রথমে বিক্রি করি পড়ে পাকা তাল ঢাকার যাত্রাবাড়ি আরতে বিক্রি করি। তাতে আমার যা লাভ হয় তাই দিয়ে খুব সুন্দর ভাবেই আমার সংসার চলে যায় বলে জানান এই তাল ব্যবসায়ী আক্কাছ বেপারী।