চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ পুরোদমে চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার পেছনে দৌড়ানোর চেয়ে রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেই বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে দেশের ইতিহাসে এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে দেশব্যাপী ওরাল কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনের পাশাপাশি একজন প্রতিবন্ধীকে টিকা খাইয়ে দিয়ে দেশব্যাপী এ কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে বেশি জোর দেওয়া হলে মানুষ যেমন সুস্থ থাকবে, তেমনি জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত রোগীর চাপও কমে আসবে।
কলেরা ও ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধে টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি সহজে গ্রহণযোগ্য একটি ওরাল বা মুখে খাওয়ার ভ্যাকসিন। শহর থেকে দূরবর্তী গ্রাম, দুর্গম চরাঞ্চল কিংবা পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদ—সব এলাকার মানুষের কাছে এ টিকা পৌঁছে দিতে হবে।
এ জন্য সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করে টিকাদান কর্মসূচিকে একটি কার্যকর সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু টিকা নয়, কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে পান করা, রান্না এবং দৈনন্দিন গৃহস্থালির প্রতিটি কাজে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।