২৬ দিন ধরে বন্ধ সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র, পরিচালক বললেন ‘ড. ইউনূসের দোষ’

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৭
২৬ দিন ধরে বন্ধ সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র, পরিচালক বললেন ‘ড. ইউনূসের দোষ’


গ্যাসসংকটের কারণে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২৬ দিন ধরে কেন্দ্রটি অচল থাকায় এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের আরও দুটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে আসায় পুরো বিভাগে লোডশেডিং বেড়েছে।


তবে এই পরিস্থিতির জন্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়ী করেছেন ময়মনসিংহ আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ।


আরপিসিএল সূত্রের বরাতে বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শম্ভুগঞ্জে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আরপিসিএল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। কেন্দ্রটিতে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নির্মাণ করে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।


তবে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসসংকটের কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা কমে এসেছে। বর্তমানে কেন্দ্রটি ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গত ২৬ দিন ধরে গ্যাসের অভাবে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।


সংশ্লিষ্টরা জানান, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এলাকাটিকে শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তিন ধাপে প্রকল্পটিতে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়।


তবে ২০০৭ সালের পর দেশে গ্যাসসংকট বাড়তে থাকায় কেন্দ্রটিতে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।


আরপিসিএলের বার্ষিক প্রতিবেদনেও উৎপাদন কমে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কেন্দ্রটির মাসভিত্তিক উৎপাদন কোনো কোনো মাসে ৪০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রটির প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৪৫ শতাংশ। এর আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে তা ছিল ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে।


ময়মনসিংহ আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল, গ্যাস ও খনিজ পদার্থ সরবরাহসংক্রান্ত একটি চুক্তি করেছিলেন। সেই চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র তেল-গ্যাস ও খনিজ পদার্থ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় দেশে জ্বালানি ও গ্যাসসংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


তিনি বলেন, গ্যাসসংকটের কারণে ২৬ দিন ধরে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় এর প্রভাব দেশের বিদ্যুৎ খাতেও পড়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ বিভাগে লোডশেডিং বেড়েছে।


তিনি আরও বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আবার উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।


## ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি


বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় ময়মনসিংহ বিভাগে লোডশেডিং বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা এবং জেলা শহরে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।


এতে খামারি, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


ময়মনসিংহ সদরের গোপালনগর গ্রামের ভ্যানচালক নাসির উদ্দিন বলেন, দিনে-রাতে মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তিন-চার ঘণ্টা পরও অনেক সময় আসে না। এতে রাতে ঘুমানো এবং সন্তানদের পড়াশোনা করানো কঠিন হয়ে পড়েছে।


স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। তবে নগরবাসীর দাবি, বাস্তবে কোথাও কোথাও ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।


নগরীর কাঁচিঝুলি এলাকার বাসিন্দা ও নারী উদ্যোক্তা শেফালী আক্তার বলেন, দিনে কয়েকবার লোডশেডিং হচ্ছে। রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এর সঙ্গে বাসাবাড়িতে গ্যাসসংকট থাকায় রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।


বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকটের কারণে ময়মনসিংহের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কবে কমবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য