ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বরিশালের উজিরপুরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাশাপাশি ৫ নম্বর শোলক ইউনিয়নেও চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
এরই মধ্যে শোলক ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, উজিরপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক পলাশ কুন্ডু।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন পলাশ কুন্ডু। স্থানীয়দের দাবি, নিজের অর্থায়নে বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাট সংস্কার, মসজিদ-মন্দিরসহ সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করেছেন তিনি। সুখে-দুঃখে সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার আয়োজনেও ভূমিকা রাখছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
পলাশ কুন্ডুর স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠেছেন তিনি। সমাজের মানুষের সঙ্গে থেকে তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা দেখেছেন কাছ থেকে। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শোলক ইউনিয়নের মানুষের জন্য আরও বড় পরিসরে কাজ করার ইচ্ছা তাঁর।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, চেয়ারম্যান হিসেবে সুযোগ পেলে জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবেন পলাশ কুন্ডু। বিশেষ করে রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা, তরুণদের উন্নয়ন ও সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাঁর কাছ থেকে কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
নবীন ভোটার আকাশ বলেন, “পলাশ কুন্ডুকে আমরা বিভিন্ন সময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখেছি। তরুণদের নিয়েও তিনি কাজ করেন। চেয়ারম্যান পদে তিনি প্রার্থী হলে তাঁর পরিকল্পনা ও কাজের বিষয়গুলো আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখব।”
রবি বলেন, “এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পলাশকে পাশে পেয়েছি। ভবিষ্যতেও তিনি সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন বলে আমরা আশা করি।”
আশরাফ বলেন, “আমরা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চাই, যিনি মানুষের কথা শুনবেন এবং সমস্যা সমাধানে পাশে থাকবেন। পলাশকে আগে বিভিন্ন সামাজিক কাজে পাশে পেয়েছি। চেয়ারম্যান হলে তিনি মানুষের জন্য আরও কাজ করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের।”
শেফালি বলেন, “পলাশ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং এলাকার বিভিন্ন মানুষের খোঁজখবর নেন। সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন—এমন একজন জনপ্রতিনিধি আমরা চাই। ভবিষ্যতেও তিনি জনগণের পাশে থাকবেন বলে আশা করি।”
স্থানীয় মুরব্বি জয়নাল বলেন, “পলাশকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে চিনি। মানুষের বিপদে-আপদে তাকে পাশে পাওয়া গেছে। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলে তিনি যেন দল-মত নির্বিশেষে সবার পাশে থাকেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
আরেক মুরব্বি মিরাজ বলেন, “জনগণের সঙ্গে কাজ করতে হলে মানুষের আস্থা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। পলাশ যদি চেয়ারম্যান হন, আমরা আশা করি তিনি এলাকার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেবেন এবং উন্নয়নকাজে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাবেন।”
পলাশ কুন্ডু যা বলছেন
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে পলাশ কুন্ডু বলেন, “ছোটবেলা থেকেই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। মানুষের কাছ থেকেই আমার বেড়ে ওঠা। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা আমার কাছে দায়িত্বের মতো। ভবিষ্যতে যদি জনগণ আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে তাঁদের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে কাজ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “শোলক ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা ও তরুণদের উন্নয়নসহ যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করব। আমি যেমন সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি, তেমনি ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকতে চাই। তাঁদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়েই ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্বাচনে যে-ই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন, তিনি যেন জনগণের পাশে থেকে শোলক ইউনিয়নের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেন।