সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সার্জেন্ট মোহাম্মদ ফজলুর রহিম কাজলের (৫৫) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিবার। এ ঘটনায় জড়িত কেউ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কাকিয়াম নামের নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা জানান, ফজলুর রহিম কাজল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর নওধার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৭ অক্টোবর বুধবার সকালে তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মুঠোফোন বন্ধ পান। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার দিন দুপুরে এক স্বজন তাঁকে ধর্মপাশামুখী একটি অটোরিকশায় দেখেছেন বলে জানান। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে মারুফ হাসান রনক ৭ অক্টোবর রাতে ধর্মপাশা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, নিখোঁজের দুই দিন পর ৯ অক্টোবর শুক্রবার নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর গ্রামসংলগ্ন কংস নদের পাড়ে মোতাহার চেয়ারম্যানের বাবার কবরস্থানের একটি বকুলগাছ থেকে ফজলুর রহিম কাজলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি গলায় রশি বাঁধা অবস্থায় গাছের ডালে বসানো অবস্থায় ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফজলুর রহিম কাজল কীভাবে নিখোঁজ হলেন, নিখোঁজ হওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং তাঁর মৃত্যুর পেছনে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনতে হবে। একই সঙ্গে তিনি কর্মস্থলে গিয়েছিলেন কি না এবং সেখান থেকে কীভাবে নিখোঁজ হলেন, সে বিষয়টিও যাচাই করার দাবি জানানো হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি জানানো হয়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে হবে। তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ ছাড়া তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরিবারকে অবহিত করা, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, প্রিয়জনকে হারানোর শোক কোনো কিছুর বিনিময়ে পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাঁরা চান, তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হোক এবং কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
তাঁরা বলেন, আমরা কোনো প্রতিহিংসা চাই না। আমরা চাই সত্য উদঘাটিত হোক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জোর দাবি জানানো হয়।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, এ ঘটনায় মোহনগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।