বিদ্যুৎ খাতে লোকসান ছাড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকা

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৮
বিদ্যুৎ খাতে লোকসান ছাড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকা


আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাসের সংকট ও উচ্চমূল্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির কারণে চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে লোকসান ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) শুরুতে এ খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা লোকসানের হিসাব করেছিল।


জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেই হিসাবের চেয়েও বেশি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়লার দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ আরও বেড়েছে।


বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এলএনজির উচ্চমূল্য। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহে বিঘ্ন এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্পট মার্কেটের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা বেড়েছে।


চলতি বছরের শুরুতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ১০ থেকে ১২ ডলারে কেনা হলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে প্রায় ৩০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে এলএনজি আমদানিতে সরকারের ব্যয় ও ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।


চলতি অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসেই এলএনজি খাতে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। অথচ পুরো অর্থবছরের জন্য এ খাতে বরাদ্দ ছিল সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে গত সাড়ে ছয় মাসে নির্ধারিত ভর্তুকির অতিরিক্ত পেট্রোবাংলার ব্যয় হয়েছে আরও ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।


পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান জানান, যুদ্ধের প্রভাবে গত সাড়ে ছয় মাসে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে সংস্থাটির অতিরিক্ত ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। একই সঙ্গে গত আড়াই মাসে এলএনজির জন্য প্রায় ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি পাওয়া গেছে।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে এলএনজি আমদানির ব্যয় ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।


এদিকে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পরও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান পুরোপুরি কমেনি। গত সাড়ে ছয় মাসে সংস্থাটির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। নতুন মূল্য সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।


বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত সাড়ে ছয় মাসে সংস্থাটির মাসিক গড় লোকসান প্রায় তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি জাহাজভাড়া, প্রিমিয়ামসহ আমদানি ব্যয় বেড়েছে। জ্বালানি সরবরাহ পেতেও আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে।


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে ডিজেলই ৪৫ লাখ মেট্রিক টন। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম গড়ে লিটারপ্রতি প্রায় ২০৫ টাকা বলে উল্লেখ করেন তিনি।


জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যয় এবং ভর্তুকির চাপ আরও বাড়বে।


ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে সরকারের ব্যয় ও ভর্তুকি দুটিই বাড়বে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের ব্যবহার বাড়ায় এ খাতেও অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে।


দীর্ঘ মেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমাতে পরিবহন ও কৃষিতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ডিজেলের ব্যবহার ও জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য