পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় ১২ জন সেনাসহ মোট ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ১২ জন সশস্ত্র হামলাকারী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী ট্যাংক জেলার একটি যৌথ সামরিক ও পুলিশ পরিচালিত নিরাপত্তা চৌকিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মধ্যরাতে হামলাটি ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় এলাকা হিসেবে পরিচিত।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রথমে সশস্ত্র হামলাকারীরা নিরাপত্তা চৌকির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে তারা ব্যর্থ হয়। এরপর বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি চৌকির বাইরের দেয়ালে সজোরে আঘাত করলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।
হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। সংগঠনটির দাবি, এ অভিযানে চারজন আত্মঘাতী বোমারু অংশ নিয়েছিল।
২০০৭ সালে গঠিত টিটিপি পাকিস্তানে কঠোর ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছে।
এদিকে পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, টিটিপির সদস্যরা আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করে। তবে কাবুল বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, পাকিস্তানে সংঘটিত এসব হামলা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।