ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম সর্বোচ্চ

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম সর্বোচ্চ


ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে পরিবহন ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক খাতেও ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৫ দশমিক ৮৫ ডলার। এক বছর আগে একই পরিমাণ ডিজেলের গড় দাম ছিল ৩ দশমিক ৭১ ডলার। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর ডিজেলের যে সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল, বর্তমান দাম সেটিকেও ছাড়িয়ে গেছে।


যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাক, ট্রেন, নৌযান ও বাসসহ কৃষি ও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যানবাহনে ডিজেল ব্যবহার করা হয়। ফলে এর দাম বাড়লে শুধু পরিবহন খাত নয়, পণ্য সরবরাহসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়তে পারে।


ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের পাইকারি দাম বৃদ্ধিকে এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


জ্বালানির দাম কমাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সব আমেরিকানের জন্য ‘গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি তেল চুক্তির কথাও জানিয়েছেন তিনি।


সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় প্রমাণিতভাবে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুতের সম্ভাবনা থাকা ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ এবং ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


তবে নতুন এই চুক্তি নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাতে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ বাধাগুলো নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে কতটা দূর করা সম্ভব হবে।


এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর সংকটকেও দেখা হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হয়ে থাকে। ফলে সেখানে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও জ্বালানি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।


জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব মার্কিন রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।


রয়টার্সের সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রতি অনুমোদনের হার ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। আর ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে সমর্থন করছেন ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।


তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে জ্বালানির দাম একই হারে বাড়েনি। করের পার্থক্য এবং তেল উৎপাদন কেন্দ্র থেকে দূরত্বের কারণে পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে ডিজেলের দাম তুলনামূলক বেশি।


ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৬ দশমিক ৮১ ডলার। এক বছর আগে সেখানে এই দাম ছিল ৫ দশমিক ৩০ ডলার।


শুধু ডিজেল নয়, পেট্রোলের দামও যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪ দশমিক ১৫ ডলার, যা এক বছর আগে ছিল ৩ দশমিক ২০ ডলার।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য