কাতারে গত ছয় মাস ধরে তিন ইরানি সামরিক পাইলট বন্দি রয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল। কাতারি বাহিনীর হাতে আটক এসব পাইলটকে পরিবারের সদস্য কিংবা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ইরান ইন্টারন্যাশনালের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ সদস্যবিষয়ক কমিটির প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলিয়ারিচ এগারের কাছে চিঠি দিয়েছেন। এতে কাতারে আটক তিন পাইলটের মুক্তির বিষয়ে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চে কাতারের একটি সামরিক ঘাঁটিতে অভিযান চালানোর সময় ইরানের রুশ নির্মিত সুখোই সু-২৪ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ওই তিন পাইলট কাতারি বাহিনীর হাতে আটক হন। তেহরানের দাবি, সেদিন তারা কাতারে একটি ‘শত্রু সামরিক ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছিলেন।
তবে পাইলটদের আটক কিংবা তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কাতারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
আইসিআরসির প্রেসিডেন্টকে দেওয়া চিঠিতে বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেন, কাতারে আটক থাকার পুরো সময়ে তিন পাইলটকে পরিবারের সদস্য কিংবা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে আটক তিন পাইলটের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলেন জাভাদ সালেহি, আবদোলমাজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরাভেশিয়ান।
এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা মাজিদ কাজেমি নামে আরও এক পাইলটকে কাতারের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি সামরিক অভিযানের পর দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
এদিকে তিন ইরানি পাইলটের কাতারে বন্দি থাকার দাবি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে তেহরান ও দোহার মধ্যে যোগাযোগ চলছে।
শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দেশটির সংবাদমাধ্যম শাহরারা নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে ইরান বার্তা আদান-প্রদান করছে।
তবে এই যোগাযোগকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হিসেবে দেখছেন না তিনি। আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু হয়নি।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে বলেও জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
কাতারে তিন ইরানি সামরিক পাইলটের দীর্ঘদিন ধরে বন্দি থাকার এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ফলে ঘটনাটি দুই দেশের সম্ভাব্য আলোচনার প্রেক্ষাপটেও নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।