পিরোজপুরের কাউখালীতে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী জেসমিন বেগমকে (৫০) দলবেঁধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি মো. মানিক হাওলাদারকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার মানিক হাওলাদার পিরোজপুর জেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতিদলের সাধারণ সম্পাদক।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮-এর বরিশালের সহকারী পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা ওয়ালিদ হাসান মিঠু সোমবার (৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এসআরবি জানায়, গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রোববার রাতে মাদারীপুর সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানিক হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাউখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে রোববার সকালে কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে জেসমিন বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঘটনার সময় জেসমিন বাড়িতে একা ছিলেন। সকালে বাড়ির পেছনের দরজা খোলা পাওয়া যায়। ঘরে প্রবেশ করে স্বজনেরা আসবাবপত্র ও আলমারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। পরে একটি কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার রাতে মানিক হাওলাদারসহ অজ্ঞাত কয়েকজন ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর জেসমিনকে দলবেঁধে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিবারের দাবি, মানিক হাওলাদারের কাছে জেসমিনের প্রায় ছয় লাখ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার পর বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রীও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।
নিহত জেসমিন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য কেরামত আলীর স্ত্রী। কয়েক বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
জেসমিনের স্বজনেরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত জানিয়েছেন, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তাঁরা। তদন্তে মানিক হাওলাদারের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
কাউখালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে মামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।