ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের তোপে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। প্রথম সেশনের পর দ্বিতীয় সেশনেও ৪ উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে ১৮৩ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া।
হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনের সুইং ও বাউন্সের সামনে দাঁড়াতেই পারছেন না অজি ব্যাটাররা।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি জুটি বেঁধে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ৫৫ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করলেও তাদের সেই লড়াই থামিয়ে দেন এবাদত হোসেন।
ইনিংসের ৩৭তম ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ইনসাইড এজে বোল্ড হন ১৯ রান করা ক্যারি।
ক্যারির বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বো ওয়েবস্টারও। ৩৯তম ওভারে তাসকিন আহমেদের সোজা বলে লাইন মিস করে বোল্ড হন তিনি। ওয়েবস্টার করেন ১০ বলে ১২ রান।
১৫৪ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে আঘাত হানেন হাসান মাহমুদ। পরপর দুই উইকেট তুলে নিয়ে অজিদের আরও চাপে ফেলে দেন তিনি। তার শেষ শিকার হন মিচেল স্টার্ক।
এর ফলে মাত্র ১৭৬ রানেই অস্ট্রেলিয়ার অষ্টম উইকেটের পতন ঘটে।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নতুন বলে দারুণ বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। ১২তম ওভারে দুর্দান্ত সুইংয়ে অজি ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডকে ২৩ রানে ফিরিয়ে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন হাসান।
নিজের পরের ওভারে আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেডকেও ২২ রানে বোল্ড করেন এই পেসার।
দুই ওপেনারকে হারানোর পর তাসের ঘরের মতো ভাঙতে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার।
মার্নাস লাবুশেনকে মাত্র ১ রানে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানিয়ে উইকেটের খাতা খোলেন এবাদত। তবে তার বলে স্টিভেন স্মিথের ক্যাচ স্লিপে তানজিদ হাসান তামিমের হাত ফসকে গেলে জীবন পান অজি ব্যাটার।
অন্যপ্রান্তে অবশ্য ক্যামেরন গ্রিনকে টিকতে দেননি তাসকিন। ওভারের শুরুতে ছক্কা হাঁকানো গ্রিনকে ১৩ রানে শেষ বলে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানান তিনি।
মধ্যাহ্ন বিরতির আগে মাত্র ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। বিরতির পর স্মিথ লড়াই চালিয়ে গেলেও বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে স্বাগতিকরা।