পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে তাদের নিজেদের মাটিতে টেস্টে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিকদের চার দিনেই ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ছিল মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য। তানজিদ হাসান তামিম দ্রুত ফিরে গেলেও কোনো অঘটন ঘটতে দেননি মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম। দুই বাঁহাতি ব্যাটার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে অনায়াসে লক্ষ্যে পৌঁছে যান।
মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে আসা দারুণ এক স্কয়ার কাট বাউন্ডারিতে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হয়। মুমিনুল ৩৯ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্য প্রান্তে সাদমান ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ২৫ রানে।
বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ের ভিত তৈরি হয়েছিল ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশের পেস আক্রমণ।
জবাবে তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের লড়াকু ফিফটি এবং শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ ৪২৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের নিজেদের মাটিতে প্রায় সাড়ে সাত বছরের মধ্যে সফরকারী কোনো দলের সর্বোচ্চ ১৩৮ ওভার ব্যাট করার নজিরও গড়ে বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আবারও চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। চতুর্থ দিনে ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করা স্বাগতিকদের ওপর সকালে ঝড় তোলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
অ্যালেক্স ক্যারিকে ৩০ রানে লিটন দাসের ক্যাচ বানানোর পর বেউ ওয়েবস্টার ও অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন মিরাজ। এতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে চলে আসে।
তবে একপ্রান্তে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ক্যামেরন গ্রিন। ১৯২ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং ঘরের মাঠে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। গ্রিনের ১০৪ রানের ইনিংসে ভর করে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য দিতে সক্ষম হয়।
কিন্তু নতুন স্পেলে ফিরে সেঞ্চুরিয়ান গ্রিনকে বোল্ড করে নিজের নবম উইকেটটি তুলে নেন হাসান মাহমুদ। এরপর নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউ করে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের ১৫তম ফাইফার পূর্ণ করেন মিরাজ। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস থামে ২৮৪ রানে।
এরপর মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারালেও মুমিনুল ও সাদমানের ব্যাটে কোনো বিপদ ছাড়াই জয় নিশ্চিত করে।
২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। দুই দশক পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টের অভিজাত সংস্করণে তাদেরই ৯ উইকেটে হারিয়ে সেই ইতিহাসকে আরও বড় করে লিখল টাইগাররা।