জামালপুর সদর উপজেলার ২ নং শরিফপুর ইউনিয়নের বানারের খালের উৎসমূখ বন্ধ থাকায় ও সেন্দুরা খালের এক কিলোমিটার খাল খনন না করায় ফলে জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি চাষাবাদ করতে পারছে না কৃষকরা ।
চলতি বর্ষা মৌসুমে জমিতে অধিক পরিমাণে পানি জমে থাকায় সেই জমিতে কচুরি পানা গজিয়ে ওঠায় পরিস্কার করতে হিমশিম খাচ্ছে জমির মালিক গণ। এতে করে চলতি আমন মৌসুমে হালচাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় জমির ওপর নির্ভরশীল কৃষকেরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় , রাঙ্গামাটিয়া , শ্রীরামপুর,মির্জাপুর , শরিফপুর, শীতলকুর্শা , রামপুর নয়াপাড়ার ও জয়রামপুরসহ ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্ৰামের হাজার হাজার বিঘা জমির
উৎপাদনশীল একমাত্র বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ গুলোতে থৈ থৈ করছে পানি ।ভারী বর্ষণের ফলে পানিতে তলিয়ে আছে জমি। এর মূল কারণ হলো, বিগত ডিসেম্বর মাসে মুকুল বাজার রেলওয়ে বানার ব্রীজ বানারখাল হয়ে শসাখালি খাল খনন কাজ হলেও বানারের খালে উৎসমূখ খনন না করায় জমে থাকা পানি ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহের বাধা সৃষ্টি হয়েছে । অপরদিকে রামপুর নয়াপাড়া, মির্জাপুর, শরিফ পুর, শীতল কুর্শা, রাঙ্গামাটিয়া, শ্রীরামপুরসহ ১০/১২টি গ্ৰামের পানি প্রবাহিত হয়ার একমাত্র সেন্দুরা খাল সেন্দুয়া খালি ব্রীজ হতো চিনি মায়ের বাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার খনন কাজ না করার জন্য এই এলাকার পানি প্রবাহ বাঁধাগ্ৰস্থের দুইটি মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । এছাড়া গোদাশিমলা বাজার ব্রীজ থেকে চকবেলতৈল হয়ে বানারপাড় মাদ্রাসা ব্রীজ পর্যন্ত পয়েন্টে পয়েন্টে মাছ ধরার জন্য বাঁশ দ্বারা বাঁধ নির্মাণ করে পানি নিষ্কাশনের বাঁধা সৃষ্টি করেছে। এতে করে উজানের পানি প্রবাহ
বন্ধ হয়ে গেছে । ফলে পানি প্রবাহের বিকল্প পথ না থাকায় জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই অঞ্চলের কৃষকদের।
রামপুর নয়াপাড়ার গ্ৰামের কৃষক ওমর ফারুক এই প্রতিবেদক কে বলেন, ' জলাবদ্ধতার জন্য আমার ১০ বিঘা জমি লাগানোর জন্য বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের বীজের জালার অভাবে আমন ধানের চাষ করাবো কিভাবে ? আমনের আবাদ করতে না পারলে পরিবারের সবাই কে না খেয়ে মরতে হবে।"
রাঙ্গামাটিয়া গ্ৰামের দরিদ্র কৃষক পেচু শেখ বলেন, '"আমি
১ বিঘা জমি বোরো ধান করেছিলাম , পাকা ধান পানিতে ডুবে গিয়ে সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে চাল কিনে খাইতে হচ্ছে। গেরস্তের বাড়িতে কাজ করাও উপায় নাই । জমিতে পানি জমে থাকার জন্য কাম পাওয়া যাচ্ছে না। নিরুপায় হয়ে একবেলা খেয়ে জীবন যাপন করতে হচ্ছে।"
কথা হয় শীতলকুর্শা গ্ৰামের কৃষক রহিম উদ্দিন সাথে তিনি বলেন, "এই গ্রামের প্রায় সব মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তারা এ জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করে দু মৌসুমে। এবার বানার খাল খনন করার পরও বানার মূখ খনন কাজ না করার জন্য এবং হেন্দুরা খাল না খুদলে খেতে জমে থাকা পানি কমবে না । জমে থাকা পানি খেতে হাল জোড়তে না পারার ফলে জমিতে প্রচুর পরিমাণে পানা ও আগাছা হয়েছে । প্রতি দিন পানা সাফ করতে জীবন শেষ হয়ে গেছে। পানি না কমলে জমিতে হালই জুড়ে ভূই তয়ের করা যাবে না ।
পানি তরাতরি চলে যাবার ব্যবস্থা না করলে আবাদ করা যাবে না। কৃষক পরিবারে নেমে আসবে দূর্ভোগ"।এলাকাবাসীর দাবি, বানারের উৎসমূখ ও সেন্দুরা খাল দ্রুত খনন করে পানি প্রবাহের পথ সুগম করা। একই সঙ্গে এই ১০টি গ্ৰামের পানি প্রবাহের মাত্রা বৃদ্ধি হবার কারণে নতুন করে পানি প্রবাহের দ্রুত সুব্যবস্থা গ্ৰহণ করে
কৃষকদের ফসল উৎপাদন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দরকার।
দ্রুত ব্যবস্থা গ্ৰহণ না করা হলে আমন ধান উৎপাদনে ব্যহৃত হবে। এতে করে জামালপুর জেলার আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে করা সম্ভব হবে না বলে সংশ্লিষ্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সচেতন মহল ধারণা করছেন।