২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স। প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। অন্য ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডা মুখোমুখি হবে শক্তিশালী মরক্কোর। দুটি ম্যাচই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নতুন উত্তেজনা ছড়াতে যাচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্ব ও নকআউটের প্রথম ধাপ মিলিয়ে চার ম্যাচের সবগুলোতেই জয় পেয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। প্রতিপক্ষের জালে ১৩ গোল করার বিপরীতে তারা হজম করেছে মাত্র দুটি গোল। দলের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলা মিলেই করেছেন ১২ গোল। পাশাপাশি মাইকেল ওলিসে, রায়ান চেরকি, দেজিরে দুয়ে ও জঁ ফিলিপ মাতেতার মতো খেলোয়াড়রাও প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছেন।
ফিলাডেলফিয়ার লিনকন ফিন্যানশিয়াল ফিল্ডে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে কাগজে-কলমে স্পষ্ট ফেভারিট ফ্রান্স। তবে প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়েকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছেন না কোচ দিদিয়ের দেশম। তার মতে, প্যারাগুয়ে এই পর্যায়ে উঠে এসেছে নিজেদের যোগ্যতায় এবং তাদের অর্জনকে কোনোভাবেই দুর্ঘটনা বলা যাবে না।
বিশ্বকাপে শুরুটা ভালো না হলেও সময়ের সঙ্গে নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে প্যারাগুয়ে। প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে দলটি শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। কোচ গুস্তাভো আলফারোর অধীনে তারা সুসংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী দলে পরিণত হয়েছে। বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন ঘটিয়ে জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেওয়া প্যারাগুয়ে এবার ফ্রান্সের বিপক্ষেও চমক দেখানোর স্বপ্ন দেখছে।
প্যারাগুয়ের জন্য ম্যাচটি প্রতিশোধের উপলক্ষও বটে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে লরাঁ ব্লাঁর গোল্ডেন গোলে বিদায় নিতে হয়েছিল লাতিন আমেরিকার দেশটিকে। সেই ম্যাচে ফ্রান্সের অধিনায়ক ছিলেন বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশম। প্রায় তিন দশক পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউটে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।
এদিকে শেষ ষোলোর আরেক ম্যাচে হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে সহ-আয়োজক কানাডা ও মরক্কো। এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে কানাডা। বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট, প্রথম জয় এবং প্রথমবার শেষ ষোলো—সবকিছুই এসেছে এই আসরে।
অন্যদিকে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল মরক্কোও রয়েছে দারুণ ছন্দে। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কো এবারও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায়। গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে টপকে শেষ ষোলোয় ওঠার পর নকআউটে নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে আশরাফ হাকিমিদের দল।
শক্তি, অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দিক থেকে মরক্কো এগিয়ে থাকলেও নির্ভার মানসিকতা এবং দুর্দান্ত ফর্ম কানাডাকে বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ করে তুলেছে। বিশ্বকাপে প্রত্যাশার চাপ কাটিয়ে ওঠা কানাডা এখন আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলছে, যা মরক্কোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
দুটি ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আরও দুটি স্থান। ফ্রান্স তাদের জয়ের ধারা ধরে রাখতে চাইলেও প্যারাগুয়ে খুঁজছে আরেকটি অঘটন। অন্যদিকে মরক্কো চাইবে নিজেদের স্বপ্নযাত্রা অব্যাহত রাখতে, আর কানাডা লিখতে চাইবে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়।