লোডশেডিংয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ, শিগগিরই পরিস্থিতি উন্নতির আশা

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০৫
লোডশেডিংয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ, শিগগিরই পরিস্থিতি উন্নতির আশা



দেশে চলমান লোডশেডিংয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সংকট কেটে যাবে এবং এর ফলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।


তবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ সমালোচনা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পেছনে ফ্যানের বাতাস খেয়ে হাতে হারিকেন নিয়ে ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’ বলা হঠকারিতা ছাড়া কিছু নয়।


শনিবার (১৫ আগস্ট) প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে দোয়া-মোনাজাত এবং অসহায় ও দরিদ্রদের অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


তারেক রহমান বলেন, সরকার দেশে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের চেষ্টা করছে। এ কাজে সময় লাগবে। সংকট সমাধানে চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে সরকার আলোচনা করেছে বলেও জানান তিনি।


বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান করার মতো কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকলে সরকার তা গ্রহণ করবে। তবে পরিকল্পনা দিতে না পারলে বিভ্রান্তির রাজনীতির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।


তিনি বলেন, ‘বিভ্রান্তি, হঠকারী রাজনীতি বাদ দেন। জনগণের উপকার হবে—এমন পরিকল্পনা থাকলে উপস্থাপন করুন। রাস্তায় বসে ভাঙচুরের রাজনীতির দিন শেষ।’


সমালোচকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘সমালোচনা করা খুবই সহজ কাজ। মুরদ থাকলে কোদাল হাতে মাঠে নামুন, জনগণের জন্য কাজ করুন। এমন কথা বলবেন না, যাতে দেশে বিশৃঙ্খলা হয়।’


তিনি আরও বলেন, যারা এখন বড় বড় কথা বলছেন, গত ১৭ বছর তাদের রাজপথে দেখা যায়নি। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা কীভাবে নির্যাতন সহ্য করেছেন, তা তুলে ধরতেও তিনি সংবাদপত্র প্রকাশের কথা বলেন।


বিরোধী দলগুলোর অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে তারা ভুল করেছে। ২০২৪ সালেও টিকিট বিক্রি করে ভুল করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এখন উসকানি ও বিভ্রান্তির রাজনীতি পরিহার করে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে দক্ষ কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে। নিজের জন্য কী পাওয়া গেল সেটি বড় বিষয় নয়, বরং জনগণের জন্য কী করা গেল সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


দেশ গঠনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া যে পথ দেখিয়ে গেছেন, তা অনুসরণ করার কথাও বলেন তারেক রহমান।


নিজের সরকারের বয়সের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শিশুর হাঁটতেও প্রায় এক বছর সময় লাগে। সেখানে বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। ক্ষমতায় এসে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।


আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার মেগাপ্রকল্পের মাধ্যমে ‘মেগা দুর্নীতি’ করেছে এবং দেশকে ফোকলা করে গেছে। বিদ্যুৎ খাতে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা দেনা রেখে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।


তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। দেশে নিজস্ব গ্যাসের মজুত থাকা সত্ত্বেও নতুন কূপ খনন করা হয়নি। বরং গুরুত্বপূর্ণ এই খাত বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।


স্বাস্থ্যখাত নিয়েও তিনি বলেন, একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।


একাত্তরে স্বাধীনতা অর্জনের পরও দেশে গণতন্ত্র বিভিন্ন সময়ে হোঁচট খেয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র থাকলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। দেশ ও মানুষের কল্যাণে যেসব কাজ প্রয়োজন, সরকার সেগুলোই করবে।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য