মার্ভেল ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড় পর্দায় ফিরছে জনপ্রিয় সুপারহিরো স্পাইডারম্যান। বহুল প্রতীক্ষিত ‘স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে ৩১ জুলাই। তবে আন্তর্জাতিক মুক্তির এক দিন আগেই বাংলাদেশের দর্শকরা সিনেমাটি উপভোগের সুযোগ পাবেন। আগামী ৩০ জুলাই দেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।
মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের (এমসিইউ) ৩৮তম চলচ্চিত্র এবং স্পাইডারম্যান সিরিজের চতুর্থ কিস্তি ‘স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ পরিচালনা করেছেন ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন।
আগের কিস্তিগুলোর ধারাবাহিকতায় পিটার পার্কার তথা স্পাইডারম্যানের ভূমিকায় ফিরেছেন টম হল্যান্ড। এমজে চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেন্ডায়া এবং নেডের ভূমিকায় রয়েছেন জ্যাকব ব্যাটালন। পাশাপাশি ব্রুস ব্যানার বা হাল্ক চরিত্রে আবারও দেখা যাবে মার্ক রাফালোকে।
এবারের সিনেমায় নতুন কয়েকজন অভিনয়শিল্পীও যুক্ত হয়েছেন। **‘আসোকা’**খ্যাত ইমান এসফান্ডি এমজের নতুন প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়া **‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’**খ্যাত অভিনেত্রী স্যাডি সিঙ্ককে দেখা যাবে একটি রহস্যময় চরিত্রে। দর্শকদের জন্য আরও একটি বড় চমক হলো, জন বার্নথাল আবারও ‘ফ্র্যাঙ্ক ক্যাসেল’ বা ‘দ্য পানিশার’ চরিত্রে বড় পর্দায় ফিরছেন।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’-এর পরবর্তী সময়। ডক্টর স্ট্রেঞ্জের জাদুর ফলে পৃথিবীর সবাই পিটার পার্কারকে ভুলে যাওয়ার পর সে একাকী জীবন শুরু করে এবং নিজের পরিচয় গোপন রেখেই নিউইয়র্ককে রক্ষা করতে থাকে। কিন্তু একাকীত্ব, মানসিক চাপ, নতুন এক শক্তিশালী শত্রুর আবির্ভাব এবং নিজের অতিমানবীয় শক্তির অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের কারণে তাকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।
নির্মাতাদের দাবি, এবার দর্শকরা আগের চেয়ে আরও পরিণত, দায়িত্বশীল ও আত্মনির্ভরশীল এক পিটার পার্কারকে দেখতে পাবেন। ফলে চরিত্রটির মানসিক বিকাশ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে সিনেমাটি। ‘স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র, যা সম্পূর্ণভাবে স্ক্রিন-এক্স প্রযুক্তির জন্য নির্মিত হয়েছে। এ প্রযুক্তিতে মূল পর্দার পাশাপাশি সিনেমা হলের দুই পাশের দেয়ালেও দৃশ্য সম্প্রসারিত হয়, ফলে দর্শকরা ২৭০ ডিগ্রি প্যানারোমিক ভিউতে আরও বাস্তবসম্মত ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবেন।
মুক্তির আগেই সিনেমাটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। ট্রেলার প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৭১ কোটি ৮৬ লাখ ভিউ অর্জনের দাবি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে অগ্রিম টিকিট বিক্রিও শুরু হয়েছে, যেখানে দর্শকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য।