বিদায়েও ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে শেষ হলো রূপকথার যাত্রা

বিভাগ: খেলাধুলা রিপোর্টার: ডেস্ক রিপোর্ট 04 Jul 2026, 06:22 AM ⏱ পড়তে সময় লাগবে 1 মিনিট
বিদায়েও ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে শেষ হলো রূপকথার যাত্রা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। রাউন্ড অব ৩২-এ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে পরাজিত হয়ে বিদায় নিলেও নিজেদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্ব ফুটবলকে মুগ্ধ করেছে 'ব্লু শার্কস'।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেপ ভার্দেকে খুব কম মানুষই সম্ভাব্য চমক হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে তারা সেই ধারণা পাল্টে দেয়। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে চমক দেখায় দলটি। এরপর শক্তিশালী উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্র করে নিজেদের সামর্থ্যের আরও বড় প্রমাণ দেয়।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ 'এইচ' থেকে রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় কেপ ভার্দে। ২০১০ সালের পর প্রথম অভিষিক্ত দল হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠার বিরল কীর্তিও গড়ে তারা।

নকআউটে প্রতিপক্ষ ছিল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং বর্তমান শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই ভয়ডরহীন ফুটবল খেলেছে কেপ ভার্দে। ম্যাচে দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল দলটি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে একটি আত্মঘাতী গোল তাদের স্বপ্নভঙ্গ করলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লিওনেল মেসিদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল তারা।

দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরমার ছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তিনি ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে দীর্ঘ সময় ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। পাশাপাশি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাউন্ড ট্যাকলেও সফল হন তিনি। স্পেনের বিপক্ষে করেছিলেন আরও ৭টি সেভ। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে তার মোট সেভের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮, যা আসরের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকদের তালিকায় তাকে জায়গা করে দিয়েছে।

এছাড়া ডেরয় দুয়ার্তে, সিডনি লোপেস কাবরাল, কেভিন পিনা ও পিকো লোপেসসহ পুরো দল অসাধারণ লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও তারা শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল, দৃঢ় রক্ষণ এবং আত্মবিশ্বাসী আক্রমণভাগ দিয়ে নজর কাড়ে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারের বিশ্বকাপে খেলা চারটি ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কেপ ভার্দেকে কোনো দলই পরাজিত করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে হারলেও তাদের পারফরম্যান্স বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছে।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও কেপ ভার্দে প্রমাণ করেছে, ফুটবলে বড় নাম বা উচ্চ র‍্যাঙ্কিংই সবকিছু নয়। আত্মবিশ্বাস, দলীয় সংহতি, কঠোর পরিশ্রম এবং শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে ছোট দলও বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস গড়তে পারে। নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপেই কেপ ভার্দে সেই ইতিহাস লিখে রেখে গেল।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

মেনু
🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা অন্যান্য চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল
Admin Panel