নিরাপত্তা শঙ্কায় বাবার জানাজায় যোগ দিতে পারেননি মোজতোবা খামেনি, দাবি নিউইয়র্ক টাইমসের

বিভাগ: আন্তর্জাতিক রিপোর্টার: অনলাইন ডেস্ক 04 Jul 2026, 02:45 PM ⏱ পড়তে সময় লাগবে 1 মিনিট
নিরাপত্তা শঙ্কায় বাবার জানাজায় যোগ দিতে পারেননি মোজতোবা খামেনি, দাবি নিউইয়র্ক টাইমসের


ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতোবা খামেনিকে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে তার বাবা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক। তবে এ বিষয়ে ইরানের কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলি খামেনির জানাজায় সবচেয়ে আলোচিত অনুপস্থিত ব্যক্তিদের একজন ছিলেন মোজতোবা খামেনি। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই তাকে প্রকাশ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ার পরামর্শ দেওদ্য নিউইয়র্ক টাইম আরও দাবি করেছে, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রথম দিনে যে বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হন, সেই হামলায় মোজতোবা খামেনিও আহত হন। এরপর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তবে এই দাবিরও স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে আলি খামেনির সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ অংশ নেন। সেখানে ‘আমেরিকার মৃত্যু’, ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগানও শোনা যায়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো আলি খামেনির কফিনের ওপর রাখা হয়েছে তার কালো পাগড়ি। একই মঞ্চে তার পরিবারের নিহত আরও চার সদস্যের কফিন রাখা হয়। অনুষ্ঠানস্থলের প্রধান মঞ্চটি পবিত্র কাবা শরিফের আদলে কালো রঙে নির্মাণ করা হয়েছে।

মোসাল্লার বিশাল প্রাঙ্গণে হাজারো মানুষ জাতীয় পতাকা ও আলি খামেনির প্রতিকৃতি হাতে শেষ শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে কিছু অংশগ্রহণকারীকে প্রতিশোধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতেও দেখা যায়। তীব্র গরমে উপস্থিত মানুষের স্বস্তির জন্য ভবনের ছাদ থেকে পানি ছিটানোর ব্যবস্থাও করা হয়।

সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত আলি খামেনির কফিন মোসাল্লায় রাখা হবে। এরপর তা ইরানের কোম এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। আগামী বৃহস্পতিবার তাকে মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শেষ বিদায়ের কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগম নিশ্চিত করতে সরকার পরিবহন, খাবার ও থাকার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং এখন তারা সমঝোতায় আগ্রহী।

অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের প্রধান আলি আবদুল্লাহি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানের সময় কোনো ধরনের ‘ভুল হিসাব’ করা হলে তার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মোজতোবা খামদ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। এসব দাবির স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ইরানের সরকারও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

মেনু
🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা অন্যান্য চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল
Admin Panel