হরমুজ নিয়ে ওমানের নতুন প্রস্তাবে কী রয়েছে?

দে
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০৯
হরমুজ নিয়ে ওমানের নতুন প্রস্তাবে কী রয়েছে?



পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার জন্য ইরানের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ওমান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি আর কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। বরং আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণে একটি যৌথ ব্যবস্থাপনার আওতায় এটি পরিচালিত হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, গত সপ্তাহান্তে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এতে কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের সমর্থন রয়েছে।


ওমানের প্রস্তাবটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালাক্কা প্রণালির ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আদলে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্তকারী মালাক্কা প্রণালি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর যৌথভাবে পরিচালনা করে।


প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলো স্বেচ্ছাভিত্তিতে একটি তহবিলে অর্থ প্রদান করবে। এই তহবিলের অর্থ নৌ-চলাচল ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সেবা পরিচালনায় ব্যয় করা হবে।


উল্লেখ্য, সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। বর্তমানে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয় হয়ে উঠেছে।


ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধের আগের মতো অবাধ নৌ-চলাচলের পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে আর ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো স্পষ্ট করেছে, ইরানকে বাধ্যতামূলক কোনো ফি পরিশোধের ব্যবস্থা তারা মেনে নেবে না।


এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি ওমান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের’ কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় যৌথ কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।


অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং একটি সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য