কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদী পার হওয়ার সময় নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে কৃষক উজির মন্ডল (৬০) নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাহিরচর ইউনিয়নের বারমাইল থেকে ঈশ্বরদীর দাদাপুর চরে চাষাবাদ করতে যাওয়ার পথে মাঝনদীতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান চলছে। উজির মন্ডল ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব নওদাপাড়া গ্রামের মৃত খেদের আলি মন্ডলের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী, নৌ-পুলিশও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে উজির মন্ডল প্রতিদিনের মতো নৌকাযোগে পদ্মা নদী পার হয়ে দাদাপুর চরে চাষাবাদে যাচ্ছিলেন। নৌকায় তার সঙ্গে ছিলেন বারমাইলের আসাদুল মালিথা, মোঃ হসতুল্লাহ এবং নয় মাইল কাচারীর আতিয়ার বিশ্বাস। প্রথমে নৌকা চালাচ্ছিলেন হসতুল্লাহ। পরে উজির নিজেই নৌকা চালাতে শুরু করেন। মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর হঠাৎ প্রবল ঢেউ নৌকায় আঘাত হানে। নৌকাটি উল্টো দিকে ঘুরে যায়। বাকি তিনজন দেখতে পান, উজির মন্ডল নৌকা থেকে ছিটকে পড়ে গেছেন। তারা দ্রুত নৌকা নিয়ে তার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রবল স্রোতের কারণে ব্যর্থ হন। নৌকায় থাকা কৃষক হসতুল্লাহ বলেন, 'নৌকাটি কাঠের তৈরি এবং ৩৩
হাত লম্বা। আমরা সাধারণত ৬০ জন এই নৌকায় চলাচল করি। উজির ভাই মূলত নৌকা চালান। আজও মাঝনদীতে তিনি নৌকা চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌকা সম্পূর্ণ ঘুরে উত্তর দিকে চলে যায়। পেছনে তাকিয়ে দেখি উজির ভাই নেই। তিনি প্রায় ৫০ হাত পেছন থেকে আমাদের ইশারা করেছিলেন। কিন্তু প্রবল স্রোতের কারণে আমরা নৌকা সেদিকে নিতে পারিনি।' নিখোঁজ কৃষকের ছোট ছেলে সজল মন্ডল বলেন, আমার বাচ্চা তিন দিন ধরে অসুস্থ, সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছিলাম, আব্বা সকালে কখন পদ্মা নদীতে গিয়েছিল আমরা কেউ অবগত ছিলাম না। বাবার নিখোঁজ ঘটনা অনাকাঙ্খিত, এই শোক মেনে
নেওয়া পরিবারের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও যন্ত্রণাদায়ক। খবর পেয়ে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস ও লক্ষ্মীকুন্ড্রা নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, 'নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। উদ্ধার কাজ চলছে। প্রয়োজনে ডুবুরি দল আসবে।' লক্ষ্মীকুন্ড্রা নৌ-ফাঁড়িরঅফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, 'ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে আমাদের ইউনিটও উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।'