রাজবাড়ীতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় স্বামীর করা মামলায় মোছা. তানিয়া খাতুন (২২) নামে এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তানিয়া খাতুন। শুনানি শেষে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তানিয়া খাতুন বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে। তিনি পেশায় একজন সেবিকা এবং রিলায়েন্স জেনারেল অ্যান্ড রেনাল হাসপাতালে কর্মরত। তার স্বামী মো. সাখাওয়াত হোসেন সোহান রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে সাখাওয়াত হোসেন সোহানের সঙ্গে তানিয়া খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তাকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়। পরে তানিয়া স্বর্ণালংকার বিক্রি করে আবারও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তার স্বামী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তানিয়া তার স্বামীকে মানসিক নির্যাতন ও তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
পরবর্তীতে সাখাওয়াত কয়েকজন সাক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে তানিয়ার বাবার বাড়িতে গিয়ে তাকে সংসারে ফিরে আসার অনুরোধ করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচ লাখ টাকা না দিলে তিনি সংসারে ফিরবেন না বলে জানান। পারিবারিকভাবে এবং স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।
এ ঘটনায় চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাখাওয়াত হোসেন সোহান বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় স্ত্রী তানিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বালিয়াকান্দি থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মঙ্গলবার তানিয়া খাতুন জামিনের আবেদন নিয়ে আদালতে হাজির হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।