মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন

দে
মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০১
মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন


বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততাপূর্ণ একাডেমিক জীবনের মাঝে দুর্গাপূজার ছুটি শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়ে এসেছে স্বস্তি, আনন্দ ও প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর সুযোগ। দীর্ঘদিনের ক্লাস, পরীক্ষা ও পড়াশোনার চাপ থেকে বিরতি পেয়ে কেউ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন, আবার কেউ মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে উপভোগ করছেন শারদীয় দুর্গোৎসব। সব মিলিয়ে, উৎসবের ছুটিতে বাড়ি ফেরা ও প্রিয়জনদের সঙ্গে পুনর্মিলনের আনন্দে কাটছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের দিনগুলো।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেরাজ বলেন, “ইউনিভার্সিটি-কলেজ বন্ধ থাকায় সবাই এখন বাড়িতেই আছি। তাই বন্ধু-বান্ধব, সিনিয়র সবার সঙ্গেই দেখা হচ্ছে, আড্ডা হচ্ছে। আম্মুর হাতের রান্না খাচ্ছি। আর নিজের এলাকার চেনা মানুষজনের সঙ্গে দেখা হলে মনটাও ভালো হয়ে যায়।”


ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন সায়েন্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী চঞ্চল সাহা বলেন, “আমাদের বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে দুর্গাপূজা শুধুই পূজা হয়ে আসে না। মা-বাবা, পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে দেখা হওয়া, পরিবারের সবার সঙ্গে আনন্দের মুহূর্তগুলো উপভোগ করা এবং রাতভর বন্ধুদের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে মায়ের দর্শন—সবকিছুই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একাডেমিক ব্যস্ততার মাঝে প্রশান্তির মুহূর্ত এনে দেয়।”


শৈশবের পূজার স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, “ছোটবেলায় পূজায় ঘুরে ঘুরে পরিবারের সবার সঙ্গে কেনাকাটা করা, বন্ধুদের সঙ্গে পূজার নতুন জামা নিয়ে কথা বলার আনন্দ ছিল অন্যরকম। এখন নিজের পোশাক কেনার চেয়েও পরিবারের জন্য কিছু কিনতে পারাটা বেশি আনন্দের হয়ে ওঠে।” এ সময় তিনি দেবী দুর্গার কাছে সবার জীবনে শান্তি, সুস্থতা ও নিরাপত্তা কামনা করেন। পাশাপাশি প্রত্যেকের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনের প্রার্থনাও জানান।


ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী তাহের চিশতী সিয়াম বলেন, “দুর্গাপূজার ছুটি বেশ ভালোই কাটছে। দীর্ঘদিনের একাডেমিক ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বিরতি পেয়ে পরিবারকে সময় দেওয়া এবং ব্যক্তিগত কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ হচ্ছে। পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অবসর সময় উপভোগ করছি। তবে ক্যাম্পাসের নিয়মিত জীবন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এবং পরিচিত পরিবেশটাও বেশ মনে পড়ছে। সব মিলিয়ে স্বস্তি ও আনন্দের মধ্য দিয়ে কাটছে ছুটির দিনগুলো।”


শেখ ইশরাত জাহান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত শিক্ষাজীবন থেকে কিছুটা বিরতি পেয়ে দুর্গাপূজার ছুটিতে বাড়িতে এসেছি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে গল্প করা এবং বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার মধ্য দিয়ে বেশ আনন্দেই কাটছে ছুটির দিনগুলো। দীর্ঘদিন পর প্রিয় মানুষদের কাছে পেয়ে সময়গুলো যেন আরও সুন্দর ও স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।”


তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজার ছুটি শুধু ধর্মীয় উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের জীবনে আনন্দ, প্রশান্তি ও প্রিয়জনদের সঙ্গে পুনর্মিলনের এক দারুণ সুযোগ এনে দেয়।


বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী বীথি সাহা বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা মানেই ঘরে ফেরার আনন্দ। পরিবার ছেড়ে আমরা যারা পড়াশোনার জন্য বাইরে থাকি, তারা পূজার এই ছুটিতে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকি। পরিবারের সঙ্গে পূজা উদ্‌যাপন করতে পেরে এই আনন্দ আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়। পূজার দিনগুলোতে সকালে মায়ের অঞ্জলি, রাতে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি এবং খাওয়াদাওয়ার মধ্য দিয়ে সময় কেটে যায়।”


শৈশবের স্মৃতির কথা উল্লেখ করে বীথি সাহা বলেন, “ছোটবেলায় পূজার নতুন জামা কেনার আনন্দটাই ছিল অন্যরকম। এখন নতুন জামার চেয়ে ছুটিতে ঘরে ফিরতে পারার আনন্দটাই বেশি।” তিনি দেবী দুর্গার কাছে পরিবারের সবার সুস্থতা, ভালো থাকা ও নিরাপত্তা কামনা করেন। পাশাপাশি সব অশুভ শক্তির বিনাশের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা জানান।


শিক্ষার্থীদের কথায়, দুর্গাপূজার ছুটি কেবল উৎসব উদ্‌যাপনের সময় নয়; বরং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা, শৈশবের স্মৃতিতে ফিরে যাওয়া এবং একাডেমিক ব্যস্ততার বাইরে নিজেকে নতুন করে সতেজ করে নেওয়ারও সুযোগ। ছুটি শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার আগে এই কয়েকটি দিন তাই তাঁদের কাছে হয়ে উঠেছে আনন্দ, ভালোবাসা ও প্রশান্তিতে ভরা এক বিশেষ সময়।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য