কিশোর অপরাধ ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দমনে কুমিল্লা, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক হাজার ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে কুমিল্লায় ৪১৫, চাঁদপুরে ৩৭০ এবং লক্ষ্মীপুরে ২৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তিন জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় একযোগে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদের পরিচয় ও অপরাধসংশ্লিষ্টতা যাচাই করছে পুলিশ।
কুমিল্লায় তৃতীয় দফার অভিযানে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক বিভিন্ন অপরাধে উঠতি বয়সীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পূর্ববর্তী অপরাধসংশ্লিষ্টতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলায় তিন দিনের অভিযানে প্রায় এক হাজার ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৮১ জনকে বিভিন্ন অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ৫৯১ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চাঁদপুরে আটটি থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বিত অভিযানে ৩৭০ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে সদর থানায় ৩৫, হাইমচরে ৪৮, ফরিদগঞ্জে ৪১, হাজীগঞ্জে ৩৭, কচুয়ায় ৬২, শাহরাস্তিতে ৪৫, মতলব উত্তরে ৫২ ও মতলব দক্ষিণে ৩৬ জন রয়েছেন। ডিবি পুলিশ আটক করেছে আরও ১৪ জনকে।
চাঁদপুরে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুরের ছয়টি থানায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর থানায় ৪২, চন্দ্রগঞ্জে ২১, রায়পুরে ৪৪, রামগঞ্জে ৩৭, রামগতিতে ৪৪ এবং কমলনগরে ৫৬ জনকে আটক করা হয়।
জেলা পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লায় কিশোর অপরাধবিরোধী অভিযান শুরু হয়। পরে চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরেও বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ।