হাসপাতালে সংকটাপন্ন মা, চিকিৎসার দেড় লাখ টাকা নিয়ে ছেলে উধাওয়ের অভিযোগ

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩
হাসপাতালে সংকটাপন্ন মা, চিকিৎসার দেড় লাখ টাকা নিয়ে ছেলে উধাওয়ের অভিযোগ


লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মায়ের জন্য রাখা দেড় লাখ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে বড় ছেলে গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। মায়ের জমি নিজের নামে লিখে না দিলে ওই টাকা ফেরত দেবেন না বলেও তিনি শর্ত দিয়েছেন বলে দাবি স্বজনদের।


সম্প্রতি উপজেলার করুণানগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ ওই নারী বর্তমানে ঢাকার শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। পরিবারের দাবি, অর্থসংকটে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।


পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া ওয়ারিশি সম্পত্তির একটি অংশ বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। ভবিষ্যতে চিকিৎসা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ওই অর্থ দুই ছেলে মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিনের নামে সোনালী ব্যাংকের একটি যৌথ হিসাবে রাখা হয়েছিল।


প্রায় এক সপ্তাহ আগে তৃতীয়বারের মতো স্ট্রোকে আক্রান্ত হন ওই নারী। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


পরিবারের অভিযোগ, মায়ের চিকিৎসার খরচ মেটাতে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুই ভাই যৌথ হিসাব থেকে পুরো দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করেন। টাকা তোলার পর বড় ভাই আলাউদ্দিন ছোট ভাই সালাউদ্দিনকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে অন্যত্র চলে যান।


সালাউদ্দিনের দাবি, পরে যোগাযোগ করা হলে আলাউদ্দিন জানান, মায়ের নামে থাকা জমি তার নামে লিখে না দিলে চিকিৎসার জন্য তোলা টাকা তিনি দেবেন না।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আলাউদ্দিন মায়ের জমি নিজের নামে লিখে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। মা তাতে রাজি হননি। বর্তমানে চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজনের মধ্যেও টাকা না পাওয়ায় পরিবার বিপাকে পড়েছে।


স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোলাইমান বলেন, মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা টাকা তুলে নিয়ে চলে যাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।


স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে সন্তানদের ওপর আস্থা রেখে ওই মা টাকা জমিয়েছিলেন। সংকটের মুহূর্তে সেই অর্থ তার চিকিৎসায় ব্যবহার করতে না পারা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।


অভিযোগের বিষয়ে আলাউদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার পর থেকে তিনি এলাকায় নেই।


কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য