নরসিংদীর সদর উপজেলার মাধবদীতে তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির চাচি লতা বেগম (৩২) এ নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নারী পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত ১১ জুন আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাগের বশে লতা বেগম শিশুটির পা মুচড়ে দেন। এ সময় শিশুটির মা গোপনে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি ধারণ করেন। পরে ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাইয়ের কাছে দেন। কীভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তদন্তের স্বার্থে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযুক্তের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। এ সময় একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করেছে পুলিশ।
তবে তদন্তে ভিডিওতে প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে শিশুটির মা-বাবার বক্তব্যের অমিল পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, ঘটনাটি পারিবারিকভাবে মীমাংসা হয়েছে এবং শিশুটির পা ভাঙেনি। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে, তার কোনো চিকিৎসা বা ব্যান্ডেজের প্রয়োজন হয়নি। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্যসহ প্রচার করা হয়েছে।
এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে শিশুর পা ভেঙে যাওয়ার দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।