সংঘাত ও প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে গণতন্ত্রের অর্জন যাতে কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে নির্ধারিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির জন্য সংঘাত কিংবা হানাহানির পথ পরিহার করা প্রয়োজন। মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অর্জিত হয়েছে। তাই গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখা শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর নয়, সবার দায়িত্ব। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে সংঘাত ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির মতে, নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নের সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিনটিকে ঠাকুরগাঁও এবং আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য আনন্দের ও গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তার প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়টি এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার নিজ জেলায় প্রথম সরকারি সফর।