কুড়িগ্রামে সিডস প্রকল্পের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এইচ ই হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন। ২১ সেপ্টেম্বর নরওয়ের রাষ্ট্রদূতসহ ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই পরিদর্শন পরিচালনা করেন। পরিদর্শনে ছিলেন নরওয়ে অ্যাম্বেসির রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী মিসেস মারিয়ান হাগেন, ডেপুটি হেড অব মিশন মি. আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিল্ডেন, প্রোগ্রাম কর্মকর্তা মিস শাহপার সেলিম, স্ট্রমে ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিজানুর রহমান ভূঁইয়া এবং প্রোগ্রাম ম্যানেজার চন্দন কুমার সরকার।
অর্ডিনেটর জেসমিন আখতারের উপস্থাপনায় পরিদর্শনের শুরুতেই অতিথি দলকে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস ও স্থানীয়দের সহায়তায় লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে ১২১ জন সদস্য বিশিষ্ট স্থানীয় কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন (সিবিও)-এর সদস্যরা ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় সংগীত পরিবেশন ও ফুল দিয়ে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরবর্তী অনুষ্ঠানে সিবিও সদস্যবৃন্দ চিত্রাঙ্কন ও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম অতিথিদের সামনে তুলে ধরেন।
তারা কীভাবে বাজার অংশীদারদের সাথে সংযোগ স্থাপন করেছেন, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ পরিচালনা করছেন এবং আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিযোজন নিয়ে কাজ করেরন তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সিবিও সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে কৌতূহল নিয়ে অনুসন্ধান চালান।এরপর রাষ্ট্রদূত ও তাঁর প্রতিনিধিদল স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আয়োজিত বিভিন্ন প্রদর্শনীয় স্টল পরিদর্শন করেন। যার মধ্যে ছিল রাজমিস্ত্রী, কাঠমিস্ত্রী, হস্তশিল্প, নাপিত ও মৃৎশিল্প (মাটির কাজ)সহ নানা ধরনের ট্রেডের দক্ষতা ও প্রদর্শনী।
পরে প্রতিনিধিদল কুড়িগ্রামের জলেশ্বরী প্রাঙ্গণ ট্রেনিং সেন্টারে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং সেখানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। বিশেষ করে ‘ওভেন সুইং মেশিন অপারেশন’ এবং ইলেকট্রিক্যালসহ অন্যান্য ফরমাল ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে কথা বলে তাদের দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে অতিথিগণ স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও যুবসমাজের স্বাবলম্বী হওয়ার প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রকল্পের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।