এইচ এম আব্দুল কুদ্দুস খোকন, স্টাফ রিপোর্টার:ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের কুনিহাড়ি গ্রামে ১৩ মিটার প্রশস্ত একটি খালের ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে ১৮ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গার্ডার সেতু। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন এ সেতুর নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে আড়াই কোটি টাকারও বেশি।
ইতোমধ্যে পুরোনো কালভার্টটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য পাইল বসানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণকাজের জন্য সাইটে বালু ও পাথরসহ প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রীও আনা হয়েছে। তবে কাজ শুরুর আগেই এসব নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা প্রশ্ন তোলেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এতে নতুন সেতুটির স্থায়িত্ব ও নির্মাণমান নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
তবে অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এলজিইডি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষায় নির্মাণসামগ্রীর ফলাফল সন্তোষজনক পাওয়ার পরই কাজ পুনরায় চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডি ঝালকাঠি সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “সাংবাদিকদের মাধ্যমে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে আমি নিজেই বিষয়টি তদারকি করি। এ সময় জেলা এলজিআরডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মাহমুদুল্লাহ নিজেও উপস্থিত ছিলেন এবং নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান যাচাইয়ের বিষয়টি সরেজমিনে তদারকি করেন।
সাইটে থাকা বালু ও পাথরসহ নির্মাণসামগ্রীর ম্যাটেরিয়াল টেস্ট, Sieve Analysis/Grading, Fineness Modulus (FM), Silt Content Test, Aggregate Crushing Value (ACV), Aggregate Impact Value (AIV) এবং Los Angeles Abrasion Test-সহ প্রয়োজনীয় যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষাগুলোর ফলাফল সন্তোষজনক এসেছে।
পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক পাওয়ায় নির্ধারিত মান অনুযায়ী নির্মাণকাজ পুনরায় চালিয়ে যাওয়ার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কাজের প্রতিটি ধাপে আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। সর্বোচ্চ মানের নির্মাণসামগ্রী এবং অনুমোদিত প্রকৌশলগত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করেই কাজ বুঝে নেওয়া হবে।”
এলজিইডি ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মাহমুদুল্লাহ এ সময় নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান যাচাই এবং নির্ধারিত প্রকৌশলগত স্পেসিফিকেশন অনুসরণ করে কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। তিনি সরেজমিনে নির্মাণস্থল পরিদর্শন করে কাজের বিভিন্ন দিকও পর্যবেক্ষণ করেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো কালভার্টটি দিয়ে এলাকার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে আসছিল। নতুন সেতু নির্মাণ শুরু হওয়ায় এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নির্মাণকাজ যথাযথ মান বজায় রেখে সম্পন্ন হলে স্থানীয় মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনে আরও সুবিধা হবে বলে আশা করছেন তারা।
এলজিইডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেতুর নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকৌশলীদের তদারকি অব্যাহত থাকবে এবং নির্ধারিত নকশা ও প্রকৌশলগত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।