জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারিং ফোরাম সিন্ডিকেটে ‘রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্য’ পদে পৃথক দুজন শিক্ষকের পক্ষে প্রস্তাব ও সুপারিশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক জাকসু ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ। একটিমাত্র পদের জন্য পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে সাবেক জাকসু ও ছাত্রদলের অন্তত ৪ জন নেতার স্বাক্ষর ও সমর্থন একই সাথে পাওয়া গেছে, যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিন্ডিকেটে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্য হিসেবে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোঃ জামাল উদ্দিন (রুনু)-কে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। এতে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক, একাডেমিক ও প্রশাসনিক অবদান, এরশাদবিরোধী ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনসহ ২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বের কথা তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে, অপর এক যৌথ বিবৃতিতে সিন্ডিকেটের একই পদের জন্য ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরীন ইসলাম খানকে মনোনীত করার জন্য জোরালো দাবি জানানো হয়। এই প্রস্তাবনায় ড. নাহরীনের একাডেমিক যোগ্যতা, জার্মানি থেকে প্রাপ্ত ডিগ্রি, আন্তর্জাতিক গবেষণা এবং সাবেক ছাত্রদল নেত্রী হিসেবে রাজনৈতিক ত্যাগের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, পৃথক দুটি প্রস্তাবনাতেই সাবেক জাকসু ও শাখা ছাত্রদলের ৪ জন শীর্ষ নেতার নাম, পদবী ও স্বাক্ষর কমন রয়েছে।
উভয় নথিতে স্বাক্ষরকারী সেই ৪ জন নেতা হলেন- সাবেক জাকসু ভিপি ও শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আশরাফ উদ্দিন খান, শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ইলিম মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন, শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম, শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ ভূঁইয়া।
একই পদের বিপরীতে পৃথক দুজন শিক্ষকের স্বপক্ষে একই নেতাদের এমন দ্বিমুখী সমর্থন ও স্বাক্ষর প্রদানের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।