বাংলাদেশে প্রায় ৭০০ প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। এর মধ্যে দোয়েল, শালিক, কাক, বুলবুলি, মাছরাঙা, টিয়া, বক, চড়ুই, কোকিলসহ অসংখ্য দেশীয় ও পরিযায়ী পাখি রয়েছে। শীত মৌসুমে সাইবেরিয়া ও অন্যান্য শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি দেশের বিভিন্ন হাওর, বিল ও জলাশয়ে আসে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাখি প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করে, ফুলের পরাগায়ন ও বীজ বিস্তারে সহায়তা করে। ফলে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বন উজাড়, জলাভূমি ভরাট, অবৈধ শিকার, কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং পরিবেশ দূষণের কারণে অনেক প্রজাতির পাখি আজ হুমকির মুখে। কিছু পাখি ইতোমধ্যে বিরল হয়ে পড়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, পাখি রক্ষায় বন ও জলাভূমি সংরক্ষণ, অবৈধ শিকার বন্ধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রকৃতি ও পাখি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে।
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে পাখি সংরক্ষণে সরকার, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাখি বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, আর প্রকৃতি বাঁচলেই নিরাপদ থাকবে মানবজীবন।