এবার আসছে ‘গর্ভবতী রোবট’, কৃত্রিম গর্ভাশয়ে বেড়ে উঠবে সন্তান

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫১
এবার আসছে ‘গর্ভবতী রোবট’, কৃত্রিম গর্ভাশয়ে বেড়ে উঠবে সন্তান

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে চীনের একটি গবেষণা প্রকল্প। দেশটির একজন প্রযুক্তি গবেষক কৃত্রিম গর্ভাশয় (Artificial Womb) সমন্বিত বিশ্বের প্রথম ‘প্রেগন্যান্সি রোবট’ বা গর্ভবতী হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির কাজ করছেন।

এই গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিঙ্গাপুরের নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক এবং ‘কাইওয়া টেকনোলজি’র উদ্যোক্তা ডা. ঝাং কিফেং। সম্প্রতি চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম কুয়াই কে ঝি-তে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

গবেষণা দলের দাবি, এটি সাধারণ ইনকিউবেটরের মতো হবে না; বরং দেখতে হবে মানুষের মতো একটি হিউম্যানয়েড রোবট। এর পেটের ভেতরে থাকবে বিশেষভাবে তৈরি একটি কৃত্রিম জরায়ু, যেখানে গর্ভধারণ থেকে শুরু করে পূর্ণ গর্ভকাল শেষে সন্তান প্রসব পর্যন্ত প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম গর্ভাশয়ের চেম্বারে থাকবে কৃত্রিম অ্যামনিওটিক ফ্লুইড, যা গর্ভের স্বাভাবিক পরিবেশ অনুকরণ করবে। এছাড়া একটি সংযোগকারী নলের মাধ্যমে ভ্রূণে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহের ব্যবস্থাও থাকবে।

ডা. ঝাং কিফেং আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী বছরের মধ্যেই এই প্রযুক্তির প্রথম প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক মডেল জনসমক্ষে উন্মোচন করা সম্ভব হবে। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ইউয়ান

তিনি আরও জানান, কৃত্রিম গর্ভাশয় প্রযুক্তি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং প্রাণীদের ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই প্রযুক্তিকে একটি সচল হিউম্যানয়েড রোবটের সঙ্গে সফলভাবে সমন্বয় করা।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের চিলড্রেনস হসপিটাল অব ফিলাডেলফিয়া-এর বিজ্ঞানীরা ‘বায়োব্যাগ’ নামে একটি কৃত্রিম জরায়ু তৈরি করে পরীক্ষামূলক সাফল্য অর্জন করেন। সেই গবেষণায় মানুষের ২৩ সপ্তাহের গর্ভস্থ শিশুর সমতুল্য একটি অপরিণত ভেড়ার বাচ্চাকে চার সপ্তাহ ধরে কৃত্রিম পরিবেশে জীবিত রাখা সম্ভব হয়েছিল।

তবে চীনের এই ‘প্রেগন্যান্সি রোবট’ এখনো গবেষণা ও উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। এটি মানুষের ওপর পরীক্ষিত বা চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কোনো প্রযুক্তি নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সারোগেসি ও প্রজনন চিকিৎসায় এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য