দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। তবে নির্বাচনের আগেই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের বিষয়ে মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পাঠানো চিঠির জবাবে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পিকারের দায়িত্ব পালনকারী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর সাংবিধানিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।
আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ কারণে সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে স্পিকারের দায়িত্বগুলো ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন।
ফলে স্পিকারের দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর দায়িত্বও ডেপুটি স্পিকারের ওপর বর্তায় বলে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা সংক্রান্ত সাংবিধানিক বিধান ও প্রক্রিয়া নিয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত জানতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয় তাদের মতামত জানায়।
আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
আজকের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য এ নির্বাচনে ভোট দেবেন। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য থাকায় মোট ভোটার ৩৪৯ জন।
ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গণনা করে ফল ঘোষণা করা হবে।
শপথ ২১ আগস্ট
চিফ হুইপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
শপথ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠান আয়োজনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
৩৫ বছর আগে হয়েছিল সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন
এর আগে ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে আব্দুর রহমান বিশ্বাস বিজয়ী হন। তিনি ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।