জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে বেরোবিতে ছাত্রশিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ

দে
ইবতেশাম রহমান সায়নাভ
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৫১
জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে বেরোবিতে ছাত্রশিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ


জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে আয়োজিত 'জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই' শীর্ষক দিনব্যাপী আলোকচিত্র ও পোস্টার প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে অন্তত চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে চলমান প্রদর্শনীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতা এবং বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে 'বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার' হিসেবে উল্লেখ করা একটি ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়াজ জামান আলভি, ছাত্রশিবির-সমর্থিত বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদের জিএস পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান এবং শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা।

ছাত্রদলের দাবি, সংঘর্ষে তাদের সহ-সভাপতি আশিকের চোখের পাশে আঘাত লাগে। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর গাছের ডাল, চেয়ার ও ইট দিয়ে হামলা চালানো হয়, যাতে মেহেদী হাসান ও সোহেল রানা আহত হন।

সংঘর্ষের দিন রাতেই মাথায় আঘাত পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন শাখা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়াজ জামান আলভি। সহপাঠীদের দাবি, মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি তীব্র মাথাব্যথায় ভুগছিলেন এবং একাধিকবার বমি করেন। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান নেন। রাতে শিবিরের নেতাকর্মীরা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া করলে তারা ক্যাম্পাস এলাকা ছেড়ে চলে যান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, "যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হবে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে অতি শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের সহিংসতাকে সমর্থন করে না। তিনি শিক্ষার্থীদের সহনশীলতা বজায় রেখে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন।


মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগর শাখা বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়। এতে দিনভর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে রংপুর মহানগর যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, তাদের অনেকের হাতেই লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র ছিল।

পরে তারা কয়েক দফায় ঝটিকা মিছিল বের করে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। উভয় পক্ষের অবস্থানের কারণে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, “শিবিরের অস্ত্রের রাজনীতির জবাব দিতেই আমরা আজ এখানে অবস্থান নিয়েছি। আবু সাঈদ চত্বরে গুপ্ত সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই। আজকের ঘটনায় সেটিই আবারও প্রমাণিত হয়েছে।”

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিএনপির অবস্থান অব্যাহত ছিল।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য