জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত শেখ আজিজুর রহমানের জীবনসংগ্রামের গল্প শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেগঘন এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সম্প্রতি ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তিনি অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে আজিজুরের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।
সাক্ষাৎকালে আজিজুর আন্দোলনের সময়ের অভিজ্ঞতা, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা, চিকিৎসা, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং সংসারের দায়িত্ব নিতে সিএনজি চালানোর সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী এবং চিকিৎসাসহ সার্বিক খোঁজখবর নেন।
এ সময় আজিজুর আন্দোলনের দিন মাথার রক্তক্ষরণ থামাতে যে জাতীয় পতাকাটি ব্যবহার করেছিলেন, সেই রক্তমাখা পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী এটি গ্রহণ করে তার সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
সাক্ষাৎ শেষে শেখ আজিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। রক্তমাখা পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে পারা তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাংলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় মিরপুর-১০ নম্বর ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা হাতে তার উপস্থিতি আলোচনায় আসে। ১৯ জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধেও রাজপথ ছাড়েননি। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।