ধর্মের নামে বিভক্তি সৃষ্টিকারীরা জাতি, ধর্ম ও ঈশ্বরের শত্রু: তথ্যমন্ত্রী

দে
দৈনিক দেশের কথা
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৬:১৪
ধর্মের নামে বিভক্তি সৃষ্টিকারীরা জাতি, ধর্ম ও ঈশ্বরের শত্রু: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, যারা ধর্মের নামে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তারা জাতি, ধর্ম এবং ঈশ্বরের শত্রু। তিনি বলেন, নিজ নিজ ধর্মবিশ্বাসে অটল থেকে সব ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করাই একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ভিত্তি।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ও ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির আয়োজনে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব ২০২৬’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত ধর্মবিশ্বাসীরা সব ধর্মের মানুষের বিশ্বাসকে সম্মান করেন। কেউ পূজা করেন, কেউ নামাজ পড়েন, আবার কেউ প্রার্থনা করেন। উপাসনার পদ্ধতি ভিন্ন হলেও সবার লক্ষ্য সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য লাভ।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভক্তি তৈরি করতে চায়। বাংলাদেশে যেমন এ ধরনের অপতৎপরতা রয়েছে, তেমনি প্রতিবেশী দেশেও এমন প্রবণতা দেখা যায়। তাই ধর্মকে পুঁজি করে যেন কেউ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সব ধর্মাবলম্বীর সমান অধিকার রয়েছে। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা কিংবা পাহাড়-সমতলের ভিত্তিতে দেশে কোনো বিভক্তি হতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দেশের সব ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষকে একই বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্তির কোনো সুযোগ নেই।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়, তারা দেশের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও রক্ত দিয়ে দেশের স্বাধীনতায় অবদান রেখেছেন। তাই তাদের কখনোই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে ভাবার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবেন।

এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি সাম্প্রদায়িক উসকানিতে বিশ্বাস করে না। বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় একই দিনে ঈদ ও দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও সবাই শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করেছেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব, ইসকন বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিমলা প্রসাদ দাসসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক ভক্ত।

সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য