দীর্ঘদিন ধরে রোদ, বৃষ্টি আর শীতের হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে মাথা গোঁজার একটু নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন রুবেল নামের এক অসহায় যুবক। জীবনের মৌলিক চাহিদার ন্যূনতম টুকু মেটানোই এখন তার জন্য এক কঠিন সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাথা গোঁজার নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেই, এমনকি নিয়মিত একটু গোসল করার মতো ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও তার কপালে জুটছে না।
একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে এবং নিরাপদ জীবনের আশায় সরকারি একটি ঘরের বন্দোবস্ত পেতে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সমাজের বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন তিনি। নিজের চরম দুর্দশার কথা তুলে ধরে আকুল আবেদন জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, রুবেলের এই বুকফাটা আর্তনাদ ও আকুতি আজও কারও মন গলাতে পারেনি। একের পর এক দরজা ঘুরেও আজ পর্যন্ত তার কপালে জোটেনি এক টুকরো ঘর বা মাথা গোঁজার ঠাঁই।
বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে কিংবা অন্যের করুণায় ক্ষণিকের আশ্রয়ে রাত কাটছে তার। রুবেলের এখন একটাই বুকভাঙ্গা দাবি—সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প বা অন্য কোনো উদ্যোগে তাকে যেন স্থায়ীভাবে একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই বা ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সমাজ সচেতন মহলের মতে, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে যখন গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের জন্য একের পর এক স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তখন রুবেলের মতো একজন নিঃস্ব যুবকের মাথা গোঁজার ঠাঁই না পাওয়া অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক।
তীব্র মানবিক কষ্টে দিনাতিপাত করা রুবেলের এই দীর্ঘশ্বাস ও দুর্দশা নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন, দায়িত্বশীল সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবানদের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। রুবেলের চাওয়া খুব বেশি কিছু নয়—শুধু একটি নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে অন্তত দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন তিনি।