গলা ব্যথা একটি খুবই সাধারণ সমস্যা। ঋতু পরিবর্তন, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, ঠান্ডা-কাশি, অ্যালার্জি বা অতিরিক্ত ধুলাবালির কারণে অনেকেই এ সমস্যায় ভোগেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গলা ব্যথা কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায়। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, গলা ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ ভাইরাস সংক্রমণ। এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণত প্রয়োজন হয় না। বরং পর্যাপ্ত বিশ্রাম, বেশি করে পানি পান এবং ঘরোয়া কিছু যত্নেই অনেক সময় আরাম পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা গলা ব্যথা হলে যেসব পরামর্শ দেন—
কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে দিনে ৩ থেকে ৪ বার গার্গল করুন।
পর্যাপ্ত পানি ও অন্যান্য তরল পান করুন, যাতে শরীর পানিশূন্য না হয়।
গরম স্যুপ, চা বা উষ্ণ পানীয় পান করলে গলায় আরাম মিলতে পারে।
ধূমপান ও ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশ এড়িয়ে চলুন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং অতিরিক্ত কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
জ্বর বা ব্যথা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
চিকিৎসকদের মতে, নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত—
গলা ব্যথা ৫ থেকে ৭ দিনের বেশি স্থায়ী হলে।
১০১°F বা তার বেশি জ্বর থাকলে।
শ্বাস নিতে বা খাবার গিলতে তীব্র কষ্ট হলে।
গলা বা ঘাড় ফুলে গেলে।
মুখ খুলতে অসুবিধা হলে।
গলায় সাদা দাগ, পুঁজ বা রক্ত দেখা গেলে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়। এতে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়ে।
শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে গলা ব্যথাকে অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিরোধে যা করবেন
নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে গলা ব্যথাসহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সতর্কতা: এই প্রতিবেদনটি জনসচেতনতামূলক তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। কোনো ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।