আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদনের সিদ্ধান্ত দুদকের

দে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫২
আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদনের সিদ্ধান্ত দুদকের


অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চলমান অনুসন্ধান যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।


দুদক সূত্রের দাবি, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, সরকারি বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদায়নে অর্থ লেনদেন, টেন্ডারে অনিয়ম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগ বর্তমানে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অনুসন্ধানের মধ্যে তিনি বিদেশে গেলে কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের দাবিও রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থ স্থানান্তর করে সম্পদ কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ রাখার অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।


সরকারি বিভিন্ন পদে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও যাচাই করছে দুদক। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ এবং বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।


এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কয়েকটি টেন্ডার ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগও এর অন্তর্ভুক্ত।


গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপ এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে ওঠা অভিযোগও দুদকের অনুসন্ধানে রয়েছে।


একই সঙ্গে ঢাকা ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন পদে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


এসব অভিযোগে আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন, সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন এবং পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার নামও এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার এবং ঘুষ লেনদেনে তদবিরের অভিযোগ রয়েছে।


এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরবর্তী সময়ে পাওয়া নতুন অভিযোগগুলোও চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।


তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ। গত ৯ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং তা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। পরে তার পক্ষ থেকে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশও পাঠানো হয়।


১১ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, অনুসন্ধানের ফলাফল বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের আগেই দুদকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে নিয়ে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়েছে। এতে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ সংবাদ

একই বিভাগের আরও সংবাদ

🏠 হোম জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক সারাবাংলা খেলাধুলা আইন আদালত বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি প্রবাস ধর্ম তথ্য ও প্রযুক্তি লাইফস্টাইল অপরাধ নারী ও শিশু রাজধানী অন্যান্য