কাছের কোনো স্বজন মারা গেলে শোক নেমে আসে পরিবারে। বিশেষ করে মা-বাবার মৃত্যু একজন মানুষের জীবনে গভীর মানসিক আঘাত তৈরি করে। এ সময় অনেকেই জানতে চান, মা-বাবার মৃত্যুর পর কতদিন পর্যন্ত স্ত্রী-সহবাস থেকে বিরত থাকতে হয় এবং এ বিষয়ে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা আছে কি না।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, মা-বাবা মারা যাওয়ার পর সন্তানের জন্য স্ত্রী-সহবাসের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক সময়সীমা নির্ধারিত নেই। অর্থাৎ মা বা বাবার মৃত্যুর কারণে স্বামীকে নির্দিষ্ট কয়েক দিন স্ত্রী থেকে আলাদা থাকতে হবে—এমন বিধান নেই।
তবে শোকের সময় মানসিক পরিস্থিতি, পারিবারিক পরিবেশ এবং মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। স্ত্রী-স্বামী দুজনের সম্মতি ও স্বাচ্ছন্দ্য থাকলে স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যেতে ধর্মীয়ভাবে নির্দিষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
ইসলামে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর শোক পালনের বিষয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সাধারণভাবে নারীর জন্য স্বামী ছাড়া অন্য কোনো মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন না করার কথা হাদিসে এসেছে। তবে স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর জন্য আলাদা বিধান রয়েছে—তাকে ইদ্দত পালন করতে হয় চার মাস ১০ দিন।
এ কারণে মা-বাবার মৃত্যু হলে সন্তানের ক্ষেত্রে স্ত্রী-সহবাসের জন্য তিন দিন, সাত দিন, চল্লিশ দিন বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করা বাধ্যতামূলক—এমন ধারণার ধর্মীয় ভিত্তি নেই।
তবে শোকের সময় স্বামী বা স্ত্রী কেউ মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকলে পরস্পরের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মতি, মানসিক স্বস্তি ও পারিবারিক পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
ধর্মীয় বিষয়ে ব্যক্তিগত বা বিশেষ পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য আলেম বা ইসলামি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।