সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :


করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই সাতক্ষীরার বাঁশদহা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য-সহকারী ফারুক আল হাসানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজ দায়িত্ব পালন না করে ব্যাক্তিগত লোক দ্বারা দায়সারা কাজ করে রিতিমতো সরকারকে ফাঁকি দিয়ে মাসে মাসে বেতন গুনছেন। যার ফলে তার ইউনিয়নের অসহায় মানুষেরা সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে হচ্ছে বঞ্চিত।
তাছাড়া উপজেলার কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিরা তার দোহায় দিয়ে মাসের পর মাস ছুটি কাটালেও দেখার কেউ নেই। আর এরই কারনে কমিউনিটি সেবা হারাচ্ছে প্রত্যান্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষ গুলো। এতেকরে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।
এদিকে উপায়ন্ত না পেয়ে বল্লী ইউনিয়নের রায়পুর এলাকাবাসী কথিত ঔ স্বাস্থ্য সহকারীকে অভিযুক্ত করে তার কার্যক্রমের ব্যাপারে তদন্ত করে বিচার চেয়ে গত (২৬এপ্রিল) সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এসময় গ্রামবাসীরা তাদের লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জানায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান কমিউনিটি ক্লিনিক আর আমরা রায়পুর কমিউনিটি ক্লিনিকের আওতাধীন জনগন। বিগত ৬-৭ মাস অত্র ক্লিনিকের সিএইচসিপি সেলিনা খাতুন প্রসুতিকালীন ছুটিতে ছিলেন। আমরা জানি এ ছুটি ছয় মাসের হয়, কিন্তু সাত মাসেও তিনি যখন ক্লিনিকে আসেনি তখন আমরা খোজ নিতে শুরু করি ও তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করি। কোন এক পর্যায়ে তিনি যে অতিরিক্ত ছুটি কাটাচ্ছে তার অনুমোদন পত্র দেখাতে পারবে কিনা জানতে চাওয়া হয়। সে বলে অনুমোদন কপি স্বাস্থ্য সহকারী ফারুক সাহেবের কছে আছে আমি কথা বলে জানাচ্ছি। কিছুক্ষণ পর পূনরায় ঐ সিএইচসিপির সাথে যোগাযোগ করা হলে তার কথায় বোঝা যায় স্বাস্থ্য সহকারী ফারুক সাহেব তাকে কোন আশ্বাস দিতে পারিনি। একটা সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে বলতে থাকেন ফারুক সাহেব আমাকে ছুটি দিয়েছেন, কিছু দেখতে ও জানতে হলে তার কাছে যান। এমনি এমনি ছুটি পায়নি প্রতি মাসে নগদ টাকা গুনতে হয়েছে। বিশ্বাস নাহলে কুশখালী সিএইচসিপি রেহানার কাছে জানতে পারেন, সেও একই ভাবে ছুটিতে আছেন। আমাদের কর্মকর্তা ফারুক সাহেব বলেছেন সব সুযোগ সুবিধা তার মাধ্যমে নিতে হবে। মাসিক চুক্তিতে ৬ মাস বাড়িতে বসে বেতন নিবেন, কোন সমস্যা হলে তিনি দেখবেন। এরপর আমরা সদর উপজেলায় খোজ খবর নিয়ে দেখেছি ফারুক সাহেব অমন নির্দেশ দেওয়ার মতো তেমন কোন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নন। তাহলে তিনি একজন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী হয়েও কার্যক্ষেত্রে তিনি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করছেন কোন ক্ষমতার জোরে ? বিষয়টি জনমনে ধোয়াশা সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।
অভিযোগের সত্যতা জানতে বল্লী ইউনিয়নের স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহম্মাদ আলাউদ্দীন সরদারের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ফারুক সাহেব একজন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী। কিন্তু তিনি চলাফেরা করেন অনেক উচ্চপদের মানুষের সাথে। তাছাড়া রাজনৈতিক একটি ছত্রছায়া তার মাথার উপরে আছে। যার কারনে সে একটু আকটু অনিয়ম করলেও এর কোন বিচার হয়না। তাছারা এমন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে নতুন কিছু না। তিনি কাওকে পরোয়া করেন না, নিজের ইচ্ছামত কাজ করেন।
ঘটনার বিষয়ে বাঁশদহা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী ফারুক আল হাসানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বাস্থ্যকর্মী এই প্রতিবেদককে জানায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহা ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারী মোঃ ফারুক আল হাসান। তিনি তার কর্ম এলাকায় নিজে কাজ না করে ইপিআই এর সকল কার্যক্রম তার অধিনস্ত পোটারের মাধ্যমে পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘদিন যাবৎ। ফলে দরিদ্র জনগণ অনিশ্চিত ভাবে তাদের স্বাস্থ্য টিকা গ্রহণ করছে। তবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি অবগত থাকলেও বড় বড় রাজনৈতিক মহলে লেয়াজু থাকার কারনে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারছে না উপজেলা প্রশাসন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, স্বাস্থ্য বিভাগ সাতক্ষীরার এক বড় কর্মকর্তার সাথে তার উঠাবসা, ফলে সে ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। সে কোন সময় এমটি ইপি আই, আবার কোন সময় সেনেটারি ইন্সপেক্টর সহকারি, আবার কোন সময় ইনস্পেক্টর ইন সার্চ ,আবার কোন সময় যুব উন্নয়ন এর সাথে পরিচিত তার। এমনকি তার এই অদৃশ্য ক্ষমতার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারীরা তার দ্বারা প্রতিনিয়ত নির্যাতিত ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহাবুবুর রহমান তার বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর দেওয়া অভিযোগটি সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করে জানান, ফারুক সাহেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। এরই মধ্যে আমরা ঐ বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি, এখন পর্যন্ত তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমানিত হলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *