রাজশাহীর তানোরে গৃহবধূর মৃত্যু আত্মহত্যা না পরিকল্পিত

ARIFkhan 0

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর তানোরে বিদেশ ফেরৎ এক গৃহবধূ সুমির (২৬) মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আত্মহত্যা না পরিকল্পিত জনমনেও মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, যে উচ্চতায় সুমির মৃত দেহ পাওয়া গেছে, সেই উচ্চতায় স্বাভাবিক আত্মহত্যা হবার কথা নয়, মুলত এই বিষয়টি নিয়েই জনমনে এসব ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার সুত্রপাত বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। এদিকে নাম না করার শর্তে নিহত সুমির এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় জানান, তাদের ধারণা সুমিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে স্বামীর লোকজন আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছে। গত সোমবার ময়না তদন্ত শেষে গৃহবধূ সুমির বাবার বাড়ি নিয়ামতপুর উপজেলার জাহিদপুর গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

জানা গেছে, নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার আদমপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের কন্যা সুমির সঙ্গে প্রায় ৫ বছর আগে রাজশাহীর তানোর উপজেলার কাঁমারগা ইউপির বিহারইল গ্রামের আনিকুলের পুত্র রুবেল হোসেনের (৪০) সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। এদিকে বিবাহের দুই বছর পর ওই গৃহবধু সৌদি আরবে গিয়ে গৃহকর্তীর কাজ শুরু করেন। কিন্ত্ত করোনা প্রার্দুভাবের কারণে গত বছর স্বামীর বাড়িতে ফিরে ঘর সংসার শুরু করেন। অন্যদিকে গত এক মাস থেকে সুমিকে ফের সৌদি আরব যাওয়ার জন্য তার স্বামী চাপ দিয়ে আসছে।

কিন্ত্ত তাদের কোনো সন্তান না থাকায় ও নানা প্রতিকুলতার কারণে সুমি ফের সৌদি যেতে অস্বীকার করে আসছিল। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ-বিবাদের সৃস্টি হয় এমনকি সুমিকে তার স্বামী একাধিকবার পাশবিক নির্যাতন করেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। এদিকে রোববার ভোরে গৃহবধু সুমিকে ঘরে গলাই ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখে স্বামী রুবেল গ্রামবাসীকে খবর দেয়।

স্থানীয়রা বলছে, স্বামী-স্ত্রী একই ঘরে থাকার পরেও স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা স্বামী বুঝতে পারবেন না এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়, তারা বলেন, সুমির আত্মহত্যার ঘটনা আসলেই রহস্যজনক। এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইন্চার্জ  (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, এই ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে এবং ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর রহস্য পরিস্কার হবে।

Tags: